সৈকতে উড়ছে লাল পতাকা, মোখার প্রভাব দেখতে ভিড়

সাগরে পর্যটক নামায় নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শনিবার , ১৩ মে, ২০২৩ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ থেকে জানমাল রক্ষায় কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। মাছধরা ট্রলারগুলো সাগর থেকে ঘাটে ফিরে এসে নিরাপদ পোতাশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৪নং সতর্কতা সংকেত জারির পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন পর্যটকদের সাগরে নামা নিষিদ্ধ করে সৈকতের চেয়ারছাতাসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে গতরাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় সতর্কতা সংকেত বাড়িয়ে ৮নং মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হলেও সাগরে সামান্য পানি বাড়লেও আর কোনো প্রভাব কক্সবাজার উপকূলে দেখা যায়নি। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রক্ষায় শুক্রবার জুমার নামাজে কক্সবাজার জেলার মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সাগরে পূর্ণ জোয়ার চলাকালে কক্সবাজারে মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাত হয়েছে। এসময় সাগরকে কিছুটা উত্তাল মনে হলেও পরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে মোখার প্রভাবে সাগরে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় সামান্য পানি বেড়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের সৈকতকর্মী মাহবুব আলম। তিনি বলেন, সাগরে সামান্য পানি বাড়লেও এখনও উত্তাল হয়ে উঠেনি। তবে আবহাওয়া বিভাগ ৪নং সতর্কতা সংকেত জারির পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে পর্যটকদের সাগরে নামা নিষিদ্ধ করে সৈকতের চেয়ারছাতাসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া সৈকতে লাল পতাকা পুঁতে দেয়ার পর পানিতে নামতে পর্যটকদের মানা করে মাইকিং করা হয়েছে। তবে মোখার প্রভাব দেখতে শুক্রবার বিকেলে সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে অন্তত বিশ হাজার পর্যটক জড়ো হন বলে জানান সৈকতের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন। এছাড়া হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফসহ শহরের বাইরের সমুদ্র সৈকতগুলোতে প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটে। যাদের মধ্যে স্থানীয়দের সংখ্যাই বেশি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকল উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলার উপকূলীয় এলাকার সকল সাইক্লোন শেল্টার ও বিদ্যালয় সহ ৫৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে ৫ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় উপকূলের মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হবে। এ জন্য ৮ হাজার ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠে রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগদ ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৫৯০ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে তিন মেট্রিক টন বিস্কুট, তিন দশমিক চার মেট্রিক টন ড্রাই কেক, ২০ হাজার পিস ওরস্যালাইন, ৪০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ১৯৪ বান্ডিল ঢেউটিন মজুদ রাখা হয়েছে।

এদিকে ৮নং সতর্কতা সংকেত জারির পর সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করে সকল ট্রলার ঘাটে ফিরে আসছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, গত রাত ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজারের ৯৫% এর বেশি ট্রলার ঘাটে ফিরে এসেছে এবং নিরাপদ পোতাশ্রয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বাকি ট্রলারগুলোও সকালের মধ্যে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কক্সবাজারে প্রায় ৭ হাজার ফিশিং বোট রয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত লবণ মাঠগুলোতে উৎপাদিত লবণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি লবণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন লবণচাষিরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টির আগ পর্যন্ত কক্সবাজারে অন্তত ১০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে বলে জানান বিসিক লবণ কেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক ড. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশে লবণ উৎপাদন ইতোমধ্যে ২২ লাখ মে.টন ছাড়িয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবারও অন্তত ২৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে উঠছেন উপকূলবাসী
পরবর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে বাইক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু