সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকাই প্রকৃত বেঁচে থাকা : এম এ মালেক

‘কবিগুরুর স্বাস্থ্যচিন্তা ও অন্তিম দিনগুলি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির শিল্প, সাহিত্য ও জীবনবোধের রূপকার। আমাদের মানস গঠনের প্রাণপুরুষ। কবিতা, গান, গল্প, ছড়া, উপন্যাস, নাটক, চিত্রকলা, তথা সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টির সুমহান স্পর্শ লেগেছে। রবীন্দ্রনাথের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যাবে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তার অন্ত ছিল না। তাঁর দীর্ঘ জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে ছিল স্বাস্থ্যভাবনা।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহমুদ এ চৌধুরী আরজু রচিত ‘কবিগুরুর স্বাস্থ্যচিন্তা ও অন্তিম দিনগুলি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও মৃগী রোগ দিবসের বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

এম এ মালেক বলেন, আজ ডা. আরজু’র যে বইটার মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, সেটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ অনেক কিছু লিখেছেন। এমন কোনো সাবজেক্ট নাই, যেখানে রবীন্দ্রনাথের লিখিত একটা লাইন বা দুইটা লাইন আপনি পাবেন না। সেই কারণেই তাকে কবিগুরু বলা হয়। রবীন্দ্রনাথের কিছু কবিতা আমাকে খুব আকর্ষণ করে এরমধ্যে একটি হলোকে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যা রবি। শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি। মাটির প্রদীপ ছিল সে কহিল, স্বামী, আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি। আরেকটা কবিতা হলো স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ, উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে গেল সেই তারি আনন্দ। এই যে ভাবনাএটা রবীন্দ্রনাথের পক্ষেই সম্ভব।

এম এ মালেক বলেন, মানুষ চায় আনন্দ উজ্জ্বল পরমায়ু। সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকাই প্রকৃত বেঁচে থাকা। মৃত্যু কাউকেই রেহাই দেয় না, এ কথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু স্বাস্থ্য ও রোগভোগ সমাজের সবার ক্ষেত্রে কখনোই সমানভাবে প্রতিফলিত হয় না। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা ছিল যাপিত জীবনের নানান অনুষঙ্গের সাথে ব্যবহারিক শিক্ষার সংযোগ ঘটানো। ১৯৪০ সালের দিকে শান্তিনিকেতনের আশেপাশে গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা দেখেছিলেন। মৃত্যু সেইসময়ে গরিবদের যতটা প্রভাবিত করেছিল ততটা উচ্চবর্ণের ক্ষেত্রে নয়। রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় এসব উঠে এসেছিল। জীবনের শেষভাগে প্রায় এক বছর সময় তাঁর কেটেছিল রোগশয্যায়। ওই সময়ে ঠিক কী কী ঘটেছিল কবির জীবনে, কেমন ছিল সেই সময়ে তাঁর সৃজন, তাঁর অসুখটা ঠিক কী ছিল এগুলো যদিও কবির আত্মীয়বন্ধু লেখকরা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, তবে অনেক সাধারণ মানুষই সেটা বিস্তারিতভাবে জানেন না। ডা. আরজু তার গ্রন্থে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন এ বিষয়ে। রবীন্দ্রনাথের জীবন ছিল পরিপাটি সমৃদ্ধ জীবন। এই বইয়ের শেষে কয়েকটি ছবি মুদ্রিত হয়েছে অসুস্থ অবস্থাতেও যে রবীন্দ্রনাথ কেমন গোছানো ছিলেন, তা স্পষ্ট এখানে। ৮৮ পৃষ্ঠার এই বইতে কবিগুরুর স্বাস্থ্যচিন্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে লেখকের বোধ ও ভাবনাচিন্তা প্রতিফলিত হয়েছে। একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, এই বইটিতে কবিগুরুর স্বাস্থ্য চিন্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি একটি নতুন দিক। কবিগুরুর স্বাস্থ্য নিয়ে আরো বই আছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তা প্রকাশিত হয়েছে। কবিগুরুর গান এবং কবিতা আজীবন আমাদের মাঝে টিকে থাকবে। আমাদের সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ নানা বিষয়ে সচেতন ছিলেন। তাঁর সমাজ চিন্তা, রাষ্ট্র চিন্তা সবকিছুই আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। বই পড়ার মধ্যে আলাদা মজা রয়েছে। তিনি নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রছাত্রীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।

টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. অলক নন্দীর সঞ্চালনায় মেডিকেল কলেজ লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ও লেখিকা অধ্যাপক আনোয়ারা আলম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, লেখক আলম খুরশেদ, মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন ও গ্রন্থের লেখক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ এ চৌধুরী আরজু। বৈজ্ঞানিক সেমিনারে মৃগী রোগ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ওয়াহিদা আক্তার লুবনা। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসকনার্স ও কর্মকর্তাকর্মচারীরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশহীদদের রক্তের অঙ্গীকার অনুযায়ী গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে : সালাহউদ্দিন
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা