সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুইজন গ্রেফতার

চট্টগ্রামে জোড়া খুন

| বৃহস্পতিবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৫ at ৪:৫১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার আলোচিত ডাবল মার্ডার কেসের ঘটনায় নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিন। এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই আসামি মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ এপ্রিল) মধ্যরাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফটিকছড়ি ও চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে বেলাল ও মানিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দুইজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

যে ভাবে ঘটানো হলো হত্যাকাণ্ড?
গত ৩০ মার্চ (রোববার) রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে বাকলিয়া এক্সেস রোডের গুলজার স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ছয়-সাতটি মোটরসাইকেলযোগে একদল দুর্বৃত্ত একটি প্রাইভেটকারকে (চট্ট মেট্রো- গ-১২-৯০৬৮) লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বখতিয়ার হোসেন মানিক (২৮) ও আবদুল্লাহ আল রিফাত (২২)।

এই হামলায় আরও চারজন আহত হন, যাদের মধ্যে রবিউল হোসেন হৃদয় ও রবিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ছোট সাজ্জাদের গ্যাং ও সারোয়ার হোসেন বাবলার গ্যাং মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মানিক ছিলেন বাবলার গাড়িচালক, আর নিহত আবদুল্লাহ তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলার নির্দেশ দেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোহাম্মদ হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, খোরশেদ, রায়হান, বোরহানসহ আরও ৬-৭ জন সশস্ত্র হামলায় অংশ নেয়।

২৯ মার্চ দিবাগত রাতে সারোয়ার হোসেন বাবলা ও তার সহযোগীরা নতুন ব্রিজ এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখান থেকে তারা বহদ্দারহাটের দিকে রওনা হলে রাজাখালী ব্রিজ এলাকায় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে তাদের পিছু নেয় এবং প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আতঙ্কিত হয়ে মানিক গাড়ি ঘুরিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড হয়ে চকবাজারের দিকে যেতে থাকেন।

সোয়া ২টার দিকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ঢাকাইয়া খানা দোকানের সামনে গাড়িটি থামলে পিছু নেওয়া সন্ত্রাসীরা পুনরায় এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মানিক ও আবদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। গাড়িতে থাকা সারোয়ার ও ইমন প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নেমে যান। হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক মানিক ও আবদুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে ১ এপ্রিল বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে।

এছাড়া, মোহাম্মদ হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, খোরশেদ, রায়হান, বোরহানসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৬-৭ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।

বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বেলাল ও মানিক গ্রেফতার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমরা একটি সুন্দর নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাই
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের আরও ২৯ জন গ্রেফতার