সিএমপি ও মহানগর বিএনপির সমন্বয় সভা

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে অনুমোদনহীন মিছিল-সমাবেশ নয়

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকালে ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে দলের কোনো নেতাকর্মী তার যাত্রাপথে সড়কের পাশে দাঁড়াবেন না। করা যাবে না অনুমোদনহীন মিছিল–সমাবেশ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জেএম সেন হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীর ৫০০ জন অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে গতকাল শনিবার সকালে সিএমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। নগরের লালদীঘি এলাকার পুলিশ কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানসহ সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেএম সেন হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের উদ্দেশে আগামী মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ সফরকে সামনে রেখে নগরীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল, বিশেষ করে জেএম সেন হল এবং সংশ্লিষ্ট প্রবেশপথ ও যাতায়াতের রুটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

এছাড়া যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের দুর্ভোগ কমানো, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান ও প্রবেশপথের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার ওপর জোর দেয়া হয়।

সভায় বলা হয়, অনুমোদনহীন মিছিল–সমাবেশ, বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম এড়িয়ে চলার মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম নগরীতে বিদ্যানন্দের ‘৫ টাকার পূজার বাজার’
পরবর্তী নিবন্ধসবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠবে