সাতকানিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিজানুর রহমান (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জহিরকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার গারাঙ্গিয়া হাতিয়ারপুল এলাকায় মুখোশধারীরা নিহত মিজানকে টেক্সি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের পর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে উপর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। সেখান থেকে উদ্ধারের পর চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (ঈদের দিন) দুপুরে মিজানের মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসী জানায়, সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হাতিয়ারকূলের মদন মৌলভীর বাড়ির মাওলানা আবদুর রহিমের ছেলে মিজানুর রহমান এবং একই এলাকার মৃত মো. ইব্রাহিমের ছেলে মো. জহিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার রাতে মিজান তার স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে লোহাগাড়ায় ঈদের শপিং করতে যান। শপিং শেষে সিএনজিচালিত টেঙি করে ফেরার সময় গারাঙ্গিয়ার হাতিয়ারপুল এলাকায় পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা মুখোশধারীরা জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের পর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণ পাশের সড়কে ফেলে চলে যায়। পরে রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন মিজানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে মিজান মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, সাতকানিয়া থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিজান হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জহিরকে নিজ বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। সাতকানিয়া থানার ওসি মন্জুরুল হক জানান, মূলত পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মিজান চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. জহিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। অন্যান্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।











