সরকার সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে

কঠিন চীবর দানোৎসবে এটিএম পেয়ারুল

| শনিবার , ৪ নভেম্বর, ২০২৩ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্যই স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রেখে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে। সকল ধর্ম ও সমপ্রদায়ের মানুষ নিজ কর্মে নিয়োজিত থেকে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখছে। বিশ্ব মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে দানোত্তম ও প্রবারণা পূর্ণিমার কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ক্রোধ ও লোভলালসাকে পরিহার করে গৌতম বুদ্ধ সারাজীবন মানুষের কল্যাণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করেছেন। শান্তি ও সমপ্রীতির মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। বর্তমান বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গৌতম বুদ্ধের জীবনাদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণ করা একান্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। দেশের বৌদ্ধ সমপ্রদায় বুদ্ধের সাম্য ও মৈত্রীর বাণী এবং তার আদর্শ ধারণ ও লালন করে জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন পেয়ারুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, . সংয়প্রিয় মহাথের, . ধর্মকীর্ত মহাথের, জ্যোতিশ্বর, আশ্বন বুদরশ্মি, রত্ন প্রিয় ভক্ষু, পিন্টু চাকমা, শুভাশিষ চকমা।

কাতালগঞ্জ নব পণ্ডিত বিহার : কাতালগঞ্জ নবপণ্ডিত বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার উপসংঘনায়ক রতনশ্রী মহাথের। প্রকৌশলী ঝুলন কান্তি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজগুরু অভায়ানন্দ মহাথের। স্বাগত বক্তব্য দেন কাতালগঞ্জ নবপণ্ডিত বিহারের অধ্যক্ষ অধ্যাপক উপানন্দ মহাথের। প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক সুমেধানন্দ মহাথের।

প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া। বক্তব্য দেন অধ্যাপক বিপুলানন্দ মহাথেরো, বজিরানন্দ মহাথের, দেবো বংশ থের, শ্রদ্ধানন্দ থের, দীপানন্দ ভিক্ষু, ভিক্ষু তনহংকর, রতনানন্দ ভিক্ষু প্রমুখ।

দুপুরে অনুষ্ঠানের মূল পর্বে সভাপতিত্ব করেন বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ২৯তম সংঘনায়ক অধ্যাপক বনশ্রী মহাথের। ধর্মসভা উদ্বোধন করেন বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথের। প্রধান বক্তা ছিলেন সমপ্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি দেবপ্রিয় বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ঊর্দ্ধতন সহসভাপতি জ্ঞানানন্দ মহাদের মহাথের। অধ্যাপক উজ্জ্বল মুৎসুদ্দীর সঞ্চালনায় উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র লাল বড়ুয়া স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহুন্ডির ৯ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১
পরবর্তী নিবন্ধপিলারের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে সেতু