ইরান যুদ্ধ ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। তড়িঘড়ি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, ইউ এ ই, সৌদি আরব সফর এবং সফররত দেশগুলির সাথে ড্রোন প্রতিহতের চুক্তি স্বাক্ষর রাশিয়াকে নিশ্চয়ই ইরান যুদ্ধের ব্যাপারে নতুন করে বার্তা দিয়েছে। এরই ত্বরিৎ প্রতিক্রিয়া হয়ত চেচেন যোদ্ধাদের ইরানের হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের ঘোষণা। ইতিপূর্বে হুতিরা ইরানের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে নিজেদের জড়িয়েছে। তারা “বাব আল মানদেব” প্রয়োজনে ইরানের পক্ষ হয়ে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছে। এটা ঘটলে “বাব আল মানদেব” এর আরেক নাম “গেইট অব টিরাস” তথা “অশ্রুপাতের প্রবেশ দ্বার” যথার্থ বলে প্রমাণিত হবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে আমাদের মত দেশ লোতে যেমন জ্বালানী তেলের জন্য গাড়ি চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষমাণ সারির সৃষ্টি হয়েছে, এ পথে সার রপ্তানীতে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়েছে তাতে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার আশংকা পৃথিবীতে খাদ্যাভাব সৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে তেমনি “বাব আল মানদেব” যদি বন্ধ হয় তবে বিশ্ব বাণিজ্যে এর যে প্রতিকূল প্রভাব পড়বে তাতে বিশ্ব অর্থনীতি এক টালমাটাল অবস্থায় পড়বে।
শিরোনামে ফিরে আসি। ইরানে আমেরিকার জন্য এক লজ্জাজনক পরাজয় অপেক্ষায়। কেন এবং কীভাবে? এ প্রশ্নের উত্তর আমার এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হবে আশা করি।
ইরান আক্রমণ শুরু হয়েছে ইসরাইলের উদ্যোগে। আমেরিকা এখানে ইসরাইলের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে কেবল। ইরানে, ইসরাইল – আমেরিকার স্বার্থ এক নয়। ইসরাইলের লক্ষ্য এবং স্বার্থ একটি দুর্বল এবং বিভক্ত ইরান। আমেরিকার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে উদ্ধৃত করে বলেছেন “নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্য হল ইরানকে ভেঙে ফেলা এবং সেখানে বিশৃংখলা তৈরী করা। এ উদ্দেশ্যে মোসাদ ইরানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির সাথে হাত মিলিয়ে আত্মঘাতী সাংঘর্ষিক একটি পরিস্থিতি সৃষ্টিতেও তৎপর”। এ প্রচেষ্টায় সফল হতে পারলে তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির উপর তার যথেচ্ছ প্রভাব বিস্তার এবং মর্জিমাফিক উদ্দেশ্য হাসিল তথা বৃহত্তর এক ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করার পথ সুগম হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে বাধা শক্তিশালী ইরান। সুতরাং কোন ভাবেই ইরান যেন শক্তিশালী না থাকে আর পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে না পারে।
অথচ পারস্য অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিশৃংখল পরিস্থিতি আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থি। এ প্রসঙ্গে জ্যাক সুলিভান এর অভিমত “হুরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ মেয়াদি অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধস নামাবে এবং পারস্য এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী ইউরোপ মুখি হবে, যেটি আমেরিকার জন্য অনুকূল হবে না”। আমেরিকার স্বার্থ এখানে একেবারেই ভিন্ন। আমেরিকার স্বার্থ ইরানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন তথা ইরানী তেল গ্যাস এর উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা। অন্য অর্থে ইরানী জ্বালানী তেলের অবাধ সরবরাহ থেকে বর্তমানে চীন তার যে উৎপাদন সক্ষমতা প্রদর্শন করছে তা থেকে চীনকে দূরে রাখার এক ধরনের মরিয়া চেষ্টা। এটি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকার পক্ষে অর্জন করা খুব একটা অসম্ভব ছিল না। যেহেতু আমেরিকা বিশেষ করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম ইসরাইলের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন সেহেতু আমেরিকা কূটনৈতিক উদ্যোগ, সমঝোতার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন থেকে সরে গিয়ে এখন যুদ্ধের মাঠে আর এটাই ছিল ইসরাইলের চাওয়া। এখন অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণও আমেরিকার হাতে নাই।
এই না থাকার কারণগুলি একে একে আলোচনা করছি। প্রথমত আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চরম সিদ্ধান্তহীনতা। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাংবাদিক, ফিলিস্তিন – ইসরাইল সংঘাত নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থের প্রণেতা জনাথন কুক তার মিডল ইস্ট আই’ এ এক লেখায় উল্লেখ করেছেন “ স্বভাব সুলভ ট্রাম্প একের পর এক বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছেন। একদিকে তিনি আলোচনা করতে চাইছেন, অন্যদিকে স্থল অভিযানের জন্য সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছেন। তার বক্তব্য থেকে তার উদ্দেশ্য বোঝা কঠিন, কারণ কথাগুলো কৌশলগতভাবে খুব একটা অর্থবহ নয়”।
এই অর্থহীনতা, কৌশলবিহীনতা থেকে সৃষ্ট মত পার্থক্য থেকেই আমেরিকান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডন, জেনারেল ব্রাউন, এ্যাডমিরাল লিসা সহ ডজন খানিক সিনিয়র অফিসারের অকালীন অবসর। এ থেকে অনুমিত আমেরিকান সামরিক বাহিনীতেও ইরান যুদ্ধের উদ্দেশ্য এবং নৈতিকতার প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে। আমেরিকান সামরিক বাহিনীর কেউ কেউ এ প্রশ্ন তুলেছেন “আমরা শপথ গ্রহণ করেছি আমেরিকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসরাইলের জন্য যুদ্ধ করতে নয়”। ইরান যুদ্ধে এটি আমেরিকান প্রশাসনের জন্য প্রথম পরাজয় বার্তা।
দ্বিতীয়ত যুদ্ধের শুরুতেই দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের “শাহজারেহ তৈয়বা” এলিমেন্টারী স্কুলে যুদ্ধ বিমান থেকে “টমাহক মিসাইল” আক্রমণ এবং এতে ১৬৮ জন স্কুল ছাত্রীর নিহত হওয়া, আমেরিকার ইরান যুদ্ধের উপর নৈতিক পরাজয়ের দ্বার উন্মোচন করে দেয়।
তৃতীয়ত আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’এর “রিজিম চেনজ” থেকে ক্রমাগত সরে গিয়ে ইরানে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ যেমন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্পাহান বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ আমেরিকানদের এ যুদ্ধের ব্যাপারে উদ্দেশ্যহীনতা এবং কৌশলবিহীনতাকেই উলঙ্গভাবে তুলে ধর্ে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ইরানের আকাশে ১৩ হাজারেরও বেশি বার উড়েছে এবং ১২ হাজার ৩০০ টি লক্ষ্যবস্ত্তুতে আঘাত হেনেছে। এ পরিসংখ্যান কি বলে না, রিজিম চেনজের কথা বলে আমেরিকা ইরানের সম্পদ, অবকাঠামো ধ্বংসের এক মহোৎসবে মেতেছে, মিথ্যার বেসাতিতে শুরু এ যুদ্ধ আমেরিকার জন্য এক বিশাল নৈতিক পরাজয় বার্তা বহন করে। এ প্রসঙ্গে ইরানী ইতিহাসবিদ, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের চেয়্যারম্যান বেহরুজ ঘামারি তাবরিজি আল জাজিরায় এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন “মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নামিয়ে, বোমা মেরে, নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা সফল হবে না”।
চতুর্থত মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা তার মিত্র তথা তাবেদার রাষ্ট্রগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে এইসব দেশ কাতার, ইউ এ ই, বাহরাইন, সৌদি আরব, ওমান, কুয়েত প্রায় প্রতিদিনই ইরানী ড্রোন আর মিসাইল আক্রমণে বিপর্যস্ত প্রায়।
পঞ্চমত আমেরিকা ইরান যুদ্ধে তার ইউরোপিয় মিত্রদের এবং একই সাথে তার সামরিক জোট ন্যাটোর কোন ধরনের সমর্থন আদায় করতে চরমভাবে ব্যর্থ। এটি আমেরিকার ইরান যুদ্ধে চূড়ান্ত কূটনৈতিক পরাজয়। এ পরাজয়ের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বৃটেন। এ সমস্ত দেশ ইরান যুদ্ধে তাদের আকাশ পথ ব্যবহারে আমেরিকার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ প্রসঙ্গে ইউ এস মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত এ্যাডমিরাল কোরেট উল্লেখ করেছেন, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সর্মথন চেয়ে যখন কাকুতি মিনতি সাথে নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছেন, তখন চীন রাশিয়া তা বেশ উপভোগ করছে।
ষষ্ঠত খোদ আমেরিকাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’এর বিরদ্ধে “নো কিং” আন্দোলনে লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ। এটি অনৈতিক একটি যুদ্ধের বিরুদ্ধে নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’এর জন্য এও এক রাজনৈতিক এবং নৈতিক পরাজয় বার্তা বহন করে নিয়ে গেছে।
সপ্তমত বিভিন্ন আইন প্রণেতা বিশেষ করে সিনেটর হোসাফদের মত সচেতন নেতারা এ প্রশ্ন তুলেছেন, জুন ২০২৫ ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন “মিড নাইট হ্যামার” পরিচালনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ঘোষণা করেছিলেন Iran’s neuclear facilities is obliterated অর্থাৎ ইরানী পারমাণবিক স্থাপনা সমূহ বিনাশ তথা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে এসে ২৮ ফেব্রুয়ারি Iran is the eminent threat to USA অর্থাৎ ইরান আমেরিকার জন্য আশু হুমকি বলে আমেরিকাকে ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছেন। যেখানে ২০২৫ এর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সমূহ বিনাশ তথা বিলুপ্ত করা হয়েছে, সেখানে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে এসে Iran is the eminent threat to USA অর্থাৎ ইরান আমেরিকার জন্য আশু হুমকি হয় কীভাবে? এর উত্তর দিয়েছেন আমেরিকার কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের পরিচালক জো কান্ট তার পদত্যাগ পত্রে, তিনি উল্লেখ করেছেন Iran poised no imminent threat to USA অর্থাৎ ইরান আমেরিকার জন্য কোন আশু হুমকি ছিল না। আর এসমস্ত বিবেচনায় নিয়ে সিনেটর হোসাফদের মত সচেতন নেতারা বলছেন, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট মিথ্যার উপর ভর করে আমেরিকানদের ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছেন। বলাবাহুল্য তা ইসরাইলীদের ফাঁদে পা দিয়ে। একসময়ের মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী’র উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োজিত থাকা কর্নেল ম্যাক গ্রেগর’ সাম্প্রতিক“দি ডিবেট” পডকাস্টের সাথে এক আলোচনায় উেল্েলখ করেছেন “দীর্ঘ ৪৭ বছর আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত কিন্ত্তু কখনো আমেরিকা ইরানে তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ইরান এই দীর্ঘ সময়ে আমেরিকানদের ব্যাপারে প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তাদের যুদ্ধ কৌশলের উপর স্পষ্ট ধারনা লাভ করে। এই অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ইরান তার রণকৌশল নির্ধারণ করে দীর্ঘ দিনের প্রস্ত্তুতি গ্রহণ করে, তারা তাদের সামরিক কমান্ড বিকেন্দ্রীকরণ করে যাতে কেন্দ্রীয় কমান্ডের উপর আঘাত হানা হলেও পুরা সামরিক ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে। এ ব্যবস্থায় আলাদা আলাদা কমান্ড কেন্দ্র থাকলেও তাদের লক্ষ্যস্থল বা লক্ষ্য অর্জন সমন্বিত উদ্যোগের আওতাধীন। সামপ্রতিক আমেরিকা–ইসরাইলের ইরান আক্রমণে ইরানীদের এ কৌশল ফলপ্রসু বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
৩ এপ্রিল এবং ৪ এপ্রিল ২০২৬ ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে আমেরিকান এফ –১৫ এবং এ – ১০ এ দুটি যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়, এফ –১৫ এর ক্রুদের উদ্ধার অভিযানে গিয়ে আমেরিকানরা আরো দুটি সি–১৩০ বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার হারায়। এটি আমেরিকানদের জন্য বাতাসে পরাজয়ের লোবানের গন্ধ ছড়ানো শুরু বলে প্রতীয়মান। এ অবস্থার যথার্থতা আমেরিকান মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মার্ক কেনসিয়ান এর এ বক্তব্য থেকে ফুটে উঠে, তিনি উল্লেখ করেছেন “ইরান দুর্বল হলেও এখনো প্রাণঘাতী”।
ইতিমধ্যে ইরানী মিসাইল সমূহ এতদিনের ইসরাইলী আকাশ সীমা দুর্ভেদ্য বলে ইসরাইলীদের যে অহমিকা, যে দম্ভ তা মোটামুটি ধুলায় মিশিয়ে প্রতিদিনই ইসরাইলের কোন না কোন লক্ষ্য বস্ত্তুতে আঘাত হেনে চলেছে একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সমূহেও।
সব দেখে শুনে দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ ইরানী দূতাবাস “প্রত্যেকেরই একটি অর্জন আছে” শিরোনামে যে কার্টুনটি প্রকাশ করেছে তার উল্লেখ করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না, ঐ কার্টুনে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মাঝে কথোপকথন, রিগান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলছেন “আমি সোভিয়েত ধ্বংস করেছি”, ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন রোনাল্ড রিগ্যানকে উদ্দেশ্য করে বলছেন “আমি আমেরিকা ধ্বংস করেছি”। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভব্যতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে এক চরম অশালীনতার আশ্রয় নিয়ে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। সে আলোচনায় আসব আগামীতে।
লেখক: প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সামরিক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক













