চট্টগ্রাম বন্দর সচল হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলেছে। তবে বহির্নোঙরে জাহাজ এবং বন্দরের অভ্যন্তর ও বেসরকারি ডিপোগুলোতে কন্টেনারের যে জট তৈরি হয়েছে তা সামলে উঠতে ঠিক কতদিন লাগবে তা নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, রোববার মধ্যরাতে কর্মসূচি স্থগিতের পর গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। বন্দরের জেটিতে অবস্থানকারী জাহাজগুলো থেকে কন্টেনার ওঠানামা স্বাভাবিক গতি পায়। তবে অ্যাসাইনমেন্ট না থাকায় বন্দর থেকে কন্টেনার ডেলিভারি ছিল না। ডিপোগুলো থেকে বন্দরে কন্টেনার আনার কার্যক্রমেও গতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।
গতকাল বন্দরে ১৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি জাহাজ বহির্নোঙর থেকে বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে, ৪টি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করেছে। দুটি জাহাজ এক জেটি থেকে অপর জেটিতে শিফটিং হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে গতকাল কন্টেনারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৩ হাজার টিইইউএস। বন্দরের ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউএস। কন্টেনারের জট ধারণক্ষমতায় খুব একটি সমস্যা না করলেও এসব কন্টেনার ডেলিভারি দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। একইভাবে বহির্নোঙরে জাহাজের যে জট তৈরি হয়েছে তা সামলে উঠতেও সময় লাগবে বলে সূত্র জানিয়েছে। কর্মসূচি স্থগিতের পর বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস কার্যক্রমও গতকাল সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে।
নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চুক্তি হচ্ছে না–সরকারের এমন ঘোষণার পর রোববার দিবাগত মধ্যরাতে ধর্মঘট আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার, বদলি ও সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে শুরু হয়।
জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, অচলাবস্থা কেটেছে, কাজ শুরু হয়েছে।
ধর্মঘটের সময় প্রথমবারের মতো বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন সাগর বলেন, ধর্মঘটের কারণে বহির্নোঙরে ৬৫টি বড় জাহাজে কাজ বন্ধ ছিল। কর্মসূচি স্থগিতের পর বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে।
এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সংগঠনটি ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুদিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষিতে রোববার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল।












