চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সচ্ছল শ্রেণি, রাজনৈতিক–সামাজিক সংগঠন এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শীত শুধু একটি মৌসুমি দুর্ভোগ নয়, শীতবস্ত্রের অভাবে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সহায়তায় প্রতিরাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। সমাজের বিত্তবানদের অনুরোধ করব–আপনারাও এগিয়ে আসুন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। এতে একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে চসিকের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ৪১০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে শীতকালীন পোশাক তুলে দেন তিনি।
মেয়র এ সময় ঘোষণা দেন, পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের পরিচালন বিভাগের প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের সবাইকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হবে। এছাড়া পরিচ্ছন্ন শ্রমিকদের জন্য আবাসিক ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা নীরবে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করে কাজ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও আন্তরিকতার প্রকাশ। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাই নগর ব্যবস্থাপনার নীরব সৈনিক–তাদের শ্রমের ফলেই নগরবাসী একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার ওপরই নগরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই সবাইকে শহরের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা নিয়ে আরও মনোযোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শীতার্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চার লক্ষ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি দরিদ্রবান্ধব ও মানবিক নগরীতে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ–প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












