‘নকল আর হবে না, পড়তে হবে’– এটি নতুন সরকারের পুরনো মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর শিক্ষার্থী/ পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিখ্যাত ভাইরাল উক্তি। এ নিয়ে খোদ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হাসিঠাট্টায় মেতে উঠেছে। পরীক্ষার্থীরা কেন এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তার অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। যথারীতি এ নিয়ে খোদ মন্ত্রী মহোদয় শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আমাদের পর্যবেক্ষণ, এখন পরীক্ষার হলে ঢালাওভাবে কয়েক দশক আগের মতো নকল বলতে যেটা বুঝায় সেটা হয় না। এর অন্যতম কারণ হতে পারে প্রশ্নপত্রে পরিবর্তন। এখন পরীক্ষা নিয়ে যে ঘাটতি আছে সেটা হলো পরীক্ষার উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়নে। এই কাজটা সম্পাদন করে নিশ্চয়ই শিক্ষকদের মধ্যে যারা পরীক্ষক তারা। দেশে যোগ্য শিক্ষক ও পরীক্ষকের অভাব আছে। এই ঘাটতি রাতারাতি পূরণ হবে এমনটিও না। এরজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে। তাহলে পরীক্ষার উত্তরপত্র যথাযথ মূল্যায়িত হতে পারে, গুণগত ফলাফল আসতে পারে ।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে চাহিদামাপিক শিক্ষক নেই। শিক্ষকদের বেতন, ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা অন্য সার্ভিসের তুলনায় যথেষ্ট কম। এছাড়া সামপ্রতিককালে বিশেষত ইন্টেরিমের আমলে সবচেয়ে বেশি হেনস্তা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিক্ষকেরা। এর ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান। নিরাপত্তাহীনতার এই পরিবেশে শিক্ষকরা প্রাণখুলে শিক্ষাদানে শঙ্কিত।
সামপ্রতিক সময়ে ঢাকার একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত শিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে একজন মাননীয় বিচারপতি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাঁর পুত্রের শিক্ষকের শরীরের বিশেষ অঙ্গে স্পর্শের মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপমান ও অপদস্ত করার সংবাদ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও দেখলাম যথেষ্ট সংক্ষুব্ধ। তদন্ত সাপেক্ষ এর যথাযথ ব্যবস্থা ও নিষ্পত্তি জরুরি। খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, এখন শিক্ষক মানে একেকজন যেন নিরীহ প্রাণী। অথচ একদিন শিক্ষকদের মর্যাদা ছিলো সমাজে অনেক ওপরে। এখন সর্বকালের সবচেয়ে তলানিতে। এটা দিনে দিনে হয়নি। এটি আমাদের সমাজের মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্দেশক। এমতাবস্থায় দেশে মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে,কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করতে হবে। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে বাঁচার মতো বেতন, ভাতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ধীরে ধীরে অংশীজনদের মতামত সাপেক্ষে পরিকল্পিতভাবে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী কারিকুলাম, শিক্ষানীতি ও কৌশল প্রবর্তন করতে হবে। বাড়াতে হবে শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ। বর্তমানে শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বাজেটে বরাদ্দ দক্ষিণ– পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সর্বনিম্নে। সংক্ষেপে বলা যায়, মানসম্মত শিক্ষার জন্য মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, যুগোপযোগী কারিকুলাম, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সর্বোপরি দরকার দক্ষ ও গতিশীল শিক্ষা প্রশাসন।











