শাহ আমানতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে চায় চিটাগাং চেম্বার

৫ প্রস্তাব জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে চিঠি

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ জন্য বিমানবন্দরে ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু রাখা, দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি বা সিএফএস স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। গতকাল রোববার সকালে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। চিঠিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র এটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগসুবিধা থাকা সত্ত্বেও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

চেম্বারের মতে, বর্তমান অবকাঠামোর মধ্যেই বিমানবন্দরে আরও বেশি যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট এবং সংযোগকারী উড়োজাহাজ চলাচল আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকাকেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামকে পূর্বপশ্চিম আকাশপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এবং পর্যটন ও লজিস্টিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

চিঠিতে বলা হয়, বিমানবন্দরসংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরউভয়ের জন্য কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি বা সিএফএস স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারিবেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), বিওও ও বিওওটি পদ্ধতিতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করতে সক্ষম ও আগ্রহী। চিটাগাং চেম্বারের পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ নির্ধারণ, দীর্ঘপথের ফ্লাইটের বিরতির সময় যাত্রী ওঠানামার সুবিধা চালু করা, সক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পিপিপি, বিওও বা বিওওটি পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি বা সিএফএস স্থাপন করা।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল ও এর সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অধিক ট্রাফিক আকর্ষণ এবং বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজাবেদের পিএস সায়েমসহ আওয়ামী লীগের ৩৫ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
পরবর্তী নিবন্ধমৌলিক অবয়ব অক্ষুণ্ন রেখে হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার