লোহাগাড়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একই অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরকে পৃথক কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং চট্টগ্রাম–১৫ নির্বাচনী এলাকার ইলেক্ট্রোরাল এনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান রূপন কুমার দাশ প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিনকে এই নোটিশ জারি করেন। উভয়ের কাছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পৃথক আবেদন করেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কারী আসহাব উদ্দিন চৌধুরী।
গতকাল বুধবার ইলেক্ট্রোরাল এনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান রূপন কুমার দাশ স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি ইলেকট্রোরাল এনকোয়ারি কমিটি বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে প্রতীক বরাদ্দের আগে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বার্ষিক প্রীতিভোজ নামক আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিন ‘দাঁড়ি পাল্লা’ প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করেছেন। উক্ত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। ভোটগ্রহণের তারিখের তিন সপ্তাহ পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ৩ ও ১৮ বিধি পরিপন্থী এবং নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন। আগামী ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টায় অভিযোগের বিষয়ে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদনসহ সুপারিশ প্রেরণ করা হবে না নোটিশ দাতার অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে, গত ১৩ জানুয়ারি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীর উপস্থিতিতে একটি বার্ষিক প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ‘দাঁড়ি পাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন ইউনিয়ন আমির মো. জসিম উদ্দিন। উক্ত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রণীত নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পূর্বে যেকোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করা যাবে না। উক্ত কার্যকলাপ নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। যা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিপন্থী। উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আনোয়ারা : নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চট্টগ্রাম–১৩ সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম–১৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ শাহরিয়ার শামস এ নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজ থেকে তার একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও কমিটির কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। যা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার বিধি–৩ ও বিধি–১৮–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রতিবেদন অতি দ্রুত কমিটির কার্যালয়ে পাঠাতে আনোয়ারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, বিএনপি প্রার্থীকে নোটিশ প্রদানের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনো পুলিশের কাছে কোনো নোটিশ আসেনি।
তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রির্টানিং অফিসার তাহমিনা আকতার বিএনপি প্রার্থীকে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি কর্তৃক নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান।












