চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজের সিরিয়াল ও পণ্য খালাস ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বৈষম্য দূর করতে ‘জাহাজি’ নামে একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো–অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) কার্যালয়ে সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।
বিডব্লিউটিসিসির কনভেনর হাজী সফিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন শেখ মো. জালাল উদ্দিন গাজী। চট্টগ্রাম ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট লোকাল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নরোত্তম চন্দ্র সাহা পলাশের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইভোয়াকের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ, বেলায়েত হোসেনসহ কার্গো এজেন্ট ও লোকাল এজেন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘জাহাজি’ সফটওয়্যারটি চালু হওয়ায় বিডব্লিউটিসিসির অধীনে পরিচালিত লাইটার জাহাজগুলোকে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে অনেক সময় লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে কোন জাহাজে কী পণ্য আছে বা কোথায় অবস্থান করছে, তা জানার সুযোগ নেই। সফটওয়্যার চালু হলে কোন রুটে কতটি জাহাজ, কী পণ্য বহন করছে এবং কোথায় আছে তা জানা যাবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরসহ বিভিন্ন বন্দরে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের সিরিয়াল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পুরনো। পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ম্যানুয়াল থাকায় নানা অনিয়ম হয়েছে। পণ্য পরিবহন নীতিমালা–২০২৪ অনুযায়ী এই সফটওয়্যার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো–অর্ডিনেশন সেলের নির্বাহী মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, সফটওয়্যারটি বর্তমানে অনেক জাহাজ মালিক ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন। এটি এক ধরনের ট্র্যাকিং ডিভাইস। অর্থাৎ কোন জাহাজ কোথায় আছে তা জানার জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। এখন সব জাহাজ মালিককে বাধ্যতামূলকভাবে এ সফটওয়্যার বাস্তবায়ন করতে হবে।












