সন্নিকটে পবিত্র রমজান। পর্যটন মৌসুমও বিদায়ের হাতছানি দিচ্ছে। রোজার আগেই কক্সবাজারে আবারও পর্যটকের ঢল নেমেছে। সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে সমুদ্রসৈকতে দেখা গেছে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস।
গতকাল শুক্রবার বিকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সাগর তীরজুড়ে মানুষ আর মানুষ। পর্যটকরা বালিয়াড়িতে বসে আড্ডা জমিয়েছে। কেউ এসেছে বন্ধু–বান্ধব নিয়ে আবার কেউ প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে। সৈকতের লাবনী পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টেও দেখা মিলে একই দৃশ্য। ছুটির দিনে সৈকতে পর্যটক আনাগোনা বেশি থাকায় খুশি ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন সৈকতের হকার ব্যবসায়ীরা। যারা ধারদেনা করে ব্যবসা শুরু করেছেন তারা ইতোমধ্যে দেনাও পরিশোধ করেছেন। সৈকতে ঝিনুক ছাতা মার্কেটে ব্যবসায়ি আবদুল মাজেদ বলেন, ‘সপ্তাহের ৫ দিন কক্সবাজারে তেমন পর্যটক থাকে না। যার কারণে আমাদের ব্যবসায় ভাটা পড়ে। ছুটির দিনে মূলত পর্যটকের ভিড় বাড়ে। এতে ব্যবসাও ভালো চলে।’ হোটেল ব্যবসায়ি রাকিব আমির বলেন, ‘ধার দেনা করে হোটেল ভাড়া নিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেক দেনা শোধ করেছি। তবে পর্যটন মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, সামনে আসছে রমজান। এ চিন্তায় পেটে ভাত ঢুকছে না। ছুটির দিন পর্যটক এসেছে অনেকটা ভালো লাগছে।’
সিলেট থেকে বেড়াতে আসা রবিউল হাসান পরিবার নিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে আনন্দে মেতেছেন। তিনি বলেন, ‘কর্মব্যস্ত জীবনে পরিবারের সদস্যদের তেমন একটা সময় দেওয়া হয় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাদের সময় দিতে ছুটে আসা সাগরতীরে।’ কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘নির্বাচনের পর অনেকটা পর্যটক সংকটে পড়েছিল কক্সবাজার। কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা থাকে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে এখন হাজার হাজার পর্যটক এসেছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ উপভোগ করছেন নিজেদের মতো। এছাড়া পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুযোগ–সুবিধা বাড়ানো ও সেবা নিশ্চিতে অংশীজনদের সমন্বয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব বিচকর্মীরা মাঠে রয়েছেন।














