নগরে মা ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্টেশন, পতেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দুটি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় কর্নার দুটি স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ।
শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি সুস্থ ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের প্রয়োজনীয় মানবিক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ একটি মানবিক ও জনবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার অংশ।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। তাদের মধ্যে অনেক মা শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু উপযুক্ত ও নিরিবিলি পরিবেশের অভাবে অনেক সময় তারা সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। মায়েদের এই বাস্তব সমস্যার কথা বিবেচনা করেই এখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, অনেক সময় জনসম্মুখে শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে মায়েরা অস্বস্তিবোধ করেন। ফলে শিশু কান্না করলেও প্রয়োজনীয় সময়ে তাকে দুধ পান করানো সম্ভব হয় না। মায়েদের এই অস্বস্তি দূর করে শিশুদের প্রয়োজনীয় সময়ে মাতৃদুগ্ধ পানের সুযোগ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জিয়াউল হক পলাশ বলেন, মায়েদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এই সেবা চালুর জন্য জায়গা দেওয়ায় আমরা চসিকের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। তাদের মধ্যে অনেক মা শিশুদের নিয়ে আসেন। এই কর্নারের নির্মাণকাজ চলার সময়ও মায়েদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এই সেবাটি পৌঁছে দিতে।
তিনি জানান, নতুন ব্রিজ এলাকায় স্থাপিত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি চালুর প্রায় এক মাসের মধ্যে ১৩৫ জন মা সেবা নিয়েছেন। এ থেকে নগরীতে এ ধরনের সেবার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়। পর্যায়ক্রমে পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।












