রেডিওথেরাপি সেবায় ভূমিকা রাখছে রোগী কল্যাণ সমিতি

চমেক হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ ।। তিন বছর ধরে একজন টেকনোলজিস্টের বেতন দিচ্ছে সমিতি

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২১ এপ্রিল, ২০২২ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগে রেডিওথেরাপি সেবায় ভূমিকা রাখছে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি। হাসপাতাল প্রশাসন ও ক্যান্সার বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপি সেবা চালু রাখতে অন্তত ৬ জন রেডিয়েশন টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে ৬টি পদ থাকলেও বিভাগে টেকনোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র একজন। এর বাইরে আউটসোর্সিংয়ের আওতায় আরো একজন টেকনোলজিস্ট নিয়োজিত রয়েছেন।

তবে মাত্র দুজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে নির্বিঘ্নে রেডিওথেরাপি সেবা চালু রাখা সম্ভবপর নয় বলে জানান বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি। সমিতির অর্থ সহায়তায় একজন টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেয়া হয় এ বিভাগে। এতে করে কোনোমতে হলেও রেডিওথেরাপি সেবা নিয়মিত চালু রাখতে পেরেছে ক্যান্সার বিভাগ।

গত তিন বছর ধরে নিয়মিতভাবে ওই টেকনোলজিস্টের বেতন দিয়ে আসছে সমিতি। এ তথ্য জানিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা অভিজিৎ সাহা আজাদীকে বলেন, ক্যান্সার বিভাগের জন্য ২০১৮ সালের শেষ দিকে সমিতির পক্ষ থেকে একজন টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেয়া হয়। মাসিক নির্দিষ্ট অংকের বেতন দিয়ে ওই টেকনোলজিস্ট রাখা হয়েছে। যার সম্পূর্ণ বেতন রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বহন করা হয়।

টেকনোলজিস্ট সংকটের কথা স্বীকার করে ক্যান্সার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ মো. ইউসুফ বলেন, ক্যান্সার রোগী দিন দিন বাড়ছে। দিনে অন্তত ১২০ থেকে ১৩০ জন রোগীকে বিভাগে রেডিওথেরাপি দিতে হয়। এ জন্য অন্তত ৬ জন রেডিয়েশন টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি একজন এবং আউটসোর্সিংয়ের আওতায় একজনসহ বিভাগে মোট দুজন টেকনোলজিস্ট ছিল। কিন্তু দুজন দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেবা দেয়া কিভাবে সম্ভব? পরে রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে একজন টেকনোলজিস্ট আমরা পেয়েছি। এই একজনও কিন্তু আমাদের জন্য বড় ধরনের সহযোগিতা বলতে হবে।

বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বর থেকে আরো একজন টেকনোলজিস্ট রাখা হয়েছে বিভাগে। ওই টেকনোলজিস্টের বেতন আপাতত বিভাগের প্রধানের পকেট থেকে দেয়া হচ্ছে। অবশ্য নিয়োগটি আউটসোর্সিংয়ের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

এদিকে, সম্প্রতি কাজী মো. আলী নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে রোগী কল্যাণ সমিতি। তিনি ওই টাকা সমিতির নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। এই টাকার বাৎসরিক মুনাফা দিয়ে ১৮ বছরের কম বয়সী তিন জন ক্যান্সার রোগীর পুরো বছরের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা। তিনি বলেন, ৫০ লাখ টাকার বাৎসরিক মুনাফা হিসেবে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পাওয়া যাবে বলে আমরা ধারণা করছি। এই মুনাফা দিয়ে তিনজন ক্যান্সার রোগীর পুরো বছরের চিকিৎসার খরচ সমিতির পক্ষ থেকে বহন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ওই রোগীদের বয়স হতে হবে ১৮ বছরের কম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দরের বহির্নোঙরে ডুবল বালিবোঝাই বাল্কহেড
পরবর্তী নিবন্ধমিষ্টিমুখকে ৩ লাখ, হোটেল জামানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা