রুশ সেনাদের প্রধান লক্ষ্য এখন পূর্ব ইউক্রেন দখল

রাশিয়াকে ঠেকাতে একজোট পশ্চিমা নেতারা ইউরোপ দেরি করে ফেলেছে : জেলেনস্কি

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ২৬ মার্চ, ২০২২ at ৭:২১ পূর্বাহ্ণ

রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অপারেশন বিভাগের প্রধান সের্গেই রুদস্কইকে বলেছেন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ডনবাস অঞ্চলের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করাই হবে এখন থেকে তার সৈন্যদের প্রধান লক্ষ্য। ইউক্রেনে সেনা অভিযানের এক মাসের মাথায় এসে এই বক্তব্য দিলেন রুশ সেনাবাহিনীর অন্যতম শীর্ষ একজন কর্মকর্তা। এদিকে প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে বর্বরতা আখ্যা দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জন্য মানবিক ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য সামরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা। অপর দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দিলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বিডিনিউজের খবর থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীরা ডনবাসের বেশ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, যার পর থেকে ঐ অঞ্চলে বিদ্রোহী এবং ইউক্রেনিয়ান সৈন্যদের মধ্যে লড়াইতে কম-বেশি ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার বলছে তাদের ‘বিশেষ সেনা অভিযানের’ দুটো ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য ছিল, একটি পুরো ইউক্রেন এবং অন্যটি শুধুমাত্র ডনবাস।
রাশিয়ার রুশ সেনাবাহিনীর অপারেশনস বিভাগের প্রধানকে উদ্ধৃত করে রুশ সরকারি বার্তা সংস্থায় প্রচারিত এই খবর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় রাশিয়া হয়তো ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে তাদের লক্ষ্য হাসিলের মাত্রা কমিয়েছে। কারণ হয়তো দেশের উত্তরে এবং রাজধানী কিয়েভে রুশ সৈন্যরা শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। সের্গেই রুদস্কই বলেছেন লুহানস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলের ৯৩ শতাংশ এবং দনিয়েস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলের ৫৪ শতাংশ এখন রুশ সৈন্যদের দখলে।
রাশিয়াকে ঠেকাতে একজোট : প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে বর্বরতা আখ্যা দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জন্য মানবিক ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য সামরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা।
রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার এক অভূতপূর্ব নজির গড়ে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে নেটো, জি৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন; এই তিন বড় জোটের সম্মেলন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইউরোপীয় নেতারা ১৯৯০ সালের বলকান যুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন সেখানে।
এদিন ইউক্রেনের প্রতিবেশী চারটি সদস্য দেশে নতুন সামরিক ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে নেটো। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের জন্য সহায়তার পরিমাণ এবং অবরোধের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এই অবরোধের আওতায় একজন নারীকেও যুক্ত করা হয়েছে, লন্ডনের দাবি অনুযায়ী তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৎ মেয়ে।
ইউরোপ দেরি করে ফেলেছে : ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দিলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সম্মেলনে ভিডিওলিংকের মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভাষণে জেলেনস্কি ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর তাণ্ডব ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন এবং ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোয় ইউরোপকে ধন্যবাদ দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পরে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে স্পষ্ট ভাষায় ইউরোপের নেতাদের বলেন, রাশিয়াকে থামাতে আপনারা দেরি করে ফেলেছেন। আপনারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞ। এগুলো খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।
দৈনিক ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র চায় ইউক্রেন : ইউক্রেন গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সামরিক চাহিদার ফর্দ বহুলাংশে বাড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমান-বিধ্বংসী ও ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
হাতে পাওয়া এক নথির বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সামরিক সহায়তা হিসেবে অস্ত্র চেয়ে ওই ফর্দ যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের বরাবরে পাঠিয়েছে ইউক্রেন। সেই তালিকায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ট্যাংক-বিধ্বংসী জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বেড়ে গেছে। সিএনএনের হাতে আসা বিস্তারিত অস্ত্র সামগ্রীর ওই নথিতে দেখা গেছে, ইউক্রেনীয়রা জরুরিভিত্তিতে দৈনিক ওই দুই ধরনের ৫০০টি করে ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এর আগে সহায়তা চেয়ে যে তালিকা ইউক্রেন দিয়েছিল, তার চেয়ে এই চাহিদা অনেকটা বেশি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজমজমাট ভারতীয় শিক্ষামেলা
পরবর্তী নিবন্ধ‘চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই’