রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ, আর্জেন্টিনার অবিস্মরণীয় জয়

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ৮ জুলাই, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন। সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে, হারের মুখ থেকে কীভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে হয় তা দেখিয়ে দিল মেসির আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটের অবিস্মরণীয় ঝড়ে তারা মিশরকে হারাল ৩২ গোলে।

খেলার ৭৯ মিনিট। তখনো আর্জেন্টিনা ০২ গোলে পিছিয়ে। অন্য কেউ হলে গল্পটা এখানেই থেমে যেতে পারত। কিন্তু এ যে মেসির আর্জেন্টিনা! ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ালেন মেসি। হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তনের শুরুটা করলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর গোল করার দায়িত্ব মেসি নিজেই নিলেন। তার ক্রসে যে আক্রমণ শুরু, তা শেষ হলো তার পায়েই। ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে সমতা ফেরালেন তিনি। ইনজুরি টাইমে যখন মনে হচ্ছিল খেলা অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল করলেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। ০২ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ ৩২ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। আগামী ১২ জুলাই রোববার সকাল ৭টায় তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে সুইজারল্যান্ড এবং কলম্বিয়া ম্যাচের বিজয়ীর সাথে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাতে মেসি আরও এক বার দেখালেন তিনি কেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। একাই দলকে বাঁচিয়ে রাখলেন বিশ্বকাপে। হ্যাঁ, তিনি আবার পেনাল্টি মিস করেছেন । চলতি বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয় বার। হ্যাঁ, তার ফ্রি কিক পোস্টে লেগে বেরিয়ে গিয়েছে। ৭২ মিনিট পর্যন্ত তিন মার্কারের দাপটে মিশরের বঙে ঢুকতে পারছিলেন না। সেই মেসিই ৭৩ মিনিট থেকে ডান প্রান্তে সরে গেলেন। ব্যস, সেখানেই শেষ মিশর। জায়গা তৈরি করলেন নিজের জন্য। গোল করালেন। গোল করলেন। এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই। খেলা শেষে মেসিকে যে ভাবে কাঁধে তুলে লাফালেন সতীর্থেরা, তাতে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি না থাকলে কী হত।

মেসি জানতেন, তিনি পারেন। তিনি পারলেনও। হারের মুখ থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। অন্যদিকে হেরেও মন জিতে নিল মিশর। মো. সালাহ্‌দের খেলা মনে রাখবেন ফুটবল ভক্তেরা। খেলা শুরুর আগে মিশরের ডিরেক্টর অফ ফুটবল হাসান হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, তাদের দলে ২৬ জন মেসি রয়েছেন। মিশরের খেলা দেখে তেমনটাই মনে হচ্ছিল। প্রথমার্ধে সালাহ্‌ তেমন কিছু করতে না পারলেও ইব্রাহিম, হাসান, জিকোদের পায়ে বার বার আক্রমণে উঠছিল মিশর। এই ম্যাচে প্রথম একাদশে তিন বদল করেছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকো, ইউলিয়ান আলভারেজ ও লিওনার্দো পারেদেস শুরু করেন। কিন্তু এই ম্যাচেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আলভারেজকে। একটি শট নেওয়া ছাড়া বিশেষ কিছু করেননি তিনি। শুরু থেকে ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এত স্লো বিল্ডআপে মিশরের মতো গতিশীল দলকে চাপে রাখা মুশকিল। সেটাই হল। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা হাসানের ক্রসে হেডে গোল করে মিশরকে এগিয়ে দিলেন ইব্রাহিম। যদিও কয়েক মিনিট পরেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে আরও এক বার হতাশ করলেন মেসি। গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবেরের বাঁ দিক দিয়ে মারার চেষ্টা করেন তিনি। হতাশায় ঢেকে দিল আর্জেন্টাইনদের মুখ। বিশ্বকাপে এই নিয়ে আটটি পেনাল্টি নিয়ে চারবার ব্যর্থ হলেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় গোল হজমে তাদের মনে ছিটকে পড়ার শঙ্কাও উঁকি দিল জোরেশোরে। তবে, ফুটবলের জাদুকর ঠিকই জ্বলে উঠলেন। লড়াইয়ে ফেরার গোলে অবদান রেখে, পরক্ষণেই নিজে করলেন গোল। পথ পেয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

আসরে এই নিয়ে আট গোল করলেন মেসি, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে গেলেন আবার। একটি করে গোল কম কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মোট গোল হলো ২১টি। আর জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ১২৫টি, ২০৪ ম্যাচে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমেসির চোখে আনন্দাশ্রু!
পরবর্তী নিবন্ধ৪২ বছরে নগরে সর্বোচ্চ বৃষ্টি