রিউগু গ্রহাণুর ধুলায় ডিএনএ তৈরির মৌলিক উপাদান

পাল্টে দিতে পারে প্রাণের আদি ইতিহাস

| বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ at ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

প্রায় ১৮ কোটি মাইল দূরের এক গ্রহাণু থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে এক মহাকাশযান পাঠিয়েছিল জাপান। ওই অভিযানের খবরটি হয়তো অনেকেরই মনে আছে। পৃথিবী থেকে দীর্ঘ যাত্রার ৬ বছর পর সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনা থেকে এখন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য মিলেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে কীভাবে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল তার রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে ওই ধূলিকণায়।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মহাকাশের রহস্যময় গ্রহাণু থেকে শুরু করে হাবল টেলিস্কোপের চোখে ধূমকেতুর ভাঙন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে গত কয়েকদিনে ঘটে গেছে কিছু রোমাঞ্চকর ঘটনা। একদিকে জাপানি মহাকাশযানের আনা রিউগু গ্রহাণুর ধূলিকণায় মিলেছে প্রাণের মৌলিক উপাদান ডিএনএর সন্ধান, যা পাল্টে দিতে পারে প্রাণের আদি ইতিহাস। অন্যদিকে হাবল টেলিস্কোপের চোখে ধূমকেতুর ভাঙন দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর বিডিনিউজের।

২০২০ সালে জাপানি মহাকাশযান ‘হায়াবুসা২’ ক্যাপসুলের মাধ্যমে রিউগু গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসে। সৌরজগতের শুরুর দিকের অবস্থা সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা গত কয়েক বছর ধরে এসব উপাদান বিশ্লেষণ করছেন। এ সপ্তাহে জাপানের গবেষকরা রোমাঞ্চকর এক আবিষ্কারের কথা বলেছেন। রিউগু থেকে আনা নমুনায় ডিএনএ ও আরএনএ তৈরির পাঁচটি প্রধান উপাদান মিলেছে।

সাম্প্রতিক অন্যান্য গবেষণার সঙ্গে এ আবিষ্কারটি যোগ হওয়ায় কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রাণের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে এসেছিল তা বোঝার ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’তে। এ গবেষণায় নিউক্লিওবেস অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন ও ইউরাসিল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান গত বছর ‘বেন্নু’ নামের অন্য এক গ্রহাণু এবং এরও আগে ‘মার্শিসন’ ও ‘ওরগুইল’ নামের উল্কাপিণ্ডে মিলেছিল।

গবেষকরা বলেছেন, এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, এসব নিউক্লিওবেস আদি সৌরজগতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদীর্ঘ ধারাবাহিক ‘ভিলেজ সোসাইটি’র প্রচার শুরু ৩১ মার্চ
পরবর্তী নিবন্ধআজ মুক্ত বিবেকের জেগে ওঠার দিন : ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজিদ মাজিদি