ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানান অধিবেশনের সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সঙ্গে সঙ্গে ‘জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি’ সহ বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। চিৎকার করে রাষ্ট্রপতি যাতে বক্তব্য না দেন, সেই দাবি জানান তারা। পরে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্লাকার্ড প্রদর্শনের পাশাপাশি জুলাইয়ের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। খবর বাংলানিউজের।
‘রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধ’ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করেছে বিরোধী দল। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির তিন অপরাধে তার ভাষণ বর্জন করা হয়েছে। ওয়াক আউট শেষে সংসদে সাংবাদিকদের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, এই সংসদে ফ্যাসিস্টের দোসর, খুনির কোনো দোসর যেন বক্তব্য রাখতে না পারে। রাষ্ট্রপতি তিনটি অপরাধে অপরাধী বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, এই প্রেসিডেন্ট তিনটা কারণে অপরাধী। তার বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না। প্রথম কারণ, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ২০২৪ সালের আগস্টের ৫ তারিখ তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।
তৃতীয় কারণ হিসেবে জামায়াত আমীর বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছেন। নির্বাচনে দুটি ভোট হবে, এতে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবে তারা সংস্কার সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। এই শপথ দুটি আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি। রাষ্ট্রপতির প্রথম দায়িত্ব ছিল অধ্যাদের জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা। তিনি সেই অধিবেশন ডাকেননি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি এই ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান করেছেন। এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন।
এর আগে সংসদ অধিবেশনে বক্তৃতাকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, স্পিকারের কাছে নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর যেন বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারেন।












