রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে মোদীর যুদ্ধ বললেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা

| শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিডিনিউজের।

এবার আরেক ধাপ এগিয়ে রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুদ্ধ বলে বসলেন ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো। দিল্লিকে মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধে চাপ আরও বাড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করলেন। বুধবার ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের পণ্যে কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাভারোর এই বক্তব্য আসে। বিবিসির খবরে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ এই শুল্কে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাই মস্কোর ইউক্রেন আগ্রাসনে তহবিল জোগাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের উপরে বোঝা বাড়িয়েছে। ভারত ট্রাম্পের চাপানো শুল্ককে অন্যায় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তেল ক্রয় কমানো হবে না। বরং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থে তেলের ক্ষেত্রে সেরা চুক্তি করা হবে। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আগ্রাসনের আগে ভারতের তেলের ২ শতাংশও সরবরাহ করত না, এখন ভারতের তেলের মোট আমদানির ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের যোগানদাতা হয়ে উঠেছে রাশিয়া। ভারতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর একই ধরনের শুল্ক চাপায়নি। অথচ চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা দেশ এবং ইইউ এখনও মস্কোর সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য করছে। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের রুশ তেল কেনা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেন, ভারত যা করছে, তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভোক্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক্ত সবাই। ভারতের উচ্চ শুল্ক আমাদের কাজ, কারখানা, আয় ও মজুরি কেড়ে নিচ্ছে। করদাতারাও ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের অর্থ দিয়েই আমাদেরকে মোদীর যুদ্ধ চালাতে হচ্ছে। তার এই মন্তব্যে সঞ্চালক নাভারোকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি (রুশ প্রেসিডেন্ট) পুতিনের যুদ্ধ কথাটি বলতে চাইছেন কিনা। জবাবে নাভারো বলেন, আমি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) মোদীর যুদ্ধই বলছি। কারণ, শান্তির পথ অনেকটাই নয়া দিল্লির ওপর নির্ভর করছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচীনের সামরিক কুচকাওয়াজে যাচ্ছেন কিম জং উন, থাকছেন পুতিনও
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন