রাঙামাটিতে নির্ধারিত সময়ে বোরো ফসল তোলা নিয়ে শঙ্কা

অর্জিত হয়নি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা

প্রান্ত রনি, রাঙামাটি | সোমবার , ৩০ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি চলতি মৌসুমে দেরিতে কমেছে। ফলে হ্রদের জলেভাসা জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। দেরিতে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণের কারণে নির্ধারিত সময়ে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বছরব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কাঙ্ক্ষিত খাদ্যশস্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে না পারলে অনিশ্চয়তায় পড়বেন প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষি বিভাগ ও চাষিরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিলম্বে কমতে থাকায় জলেভাসা জমিতে ফসল ফলাতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করে উৎপাদিত ফসল তোলার নির্ধারিত সময়ের আগে বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। আবার বর্ষায় উজানের ঢল ও বৃষ্টির পানিতে লোকসান হওয়ার কারণে অনেক কৃষক বোরো আবাদ কমিয়েছেন। সেজন্য আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা থাকলেও সেটি অর্জিত হয়নি চলতি মৌসুমে।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙামাটি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫২৬ মৌসুমে রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলায় ৯ হাজার ১ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ৮ হাজার ৭৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সাড়ে ৯৬ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জেলার ৪ হাজার ৯০০ হেক্টরে হাইব্রিড বীজ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৭৭৬ হেক্টর। অন্যদিকে ৪ হাজার ২০০ হেক্টরে উফশী জাতের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৩ হেক্টরে।

উপজেলাভিত্তিক আবাদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলাতে। এরপর লংগদু উপজেলা ও রাঙামাটি সদরে। জেলার বিলাইছড়িতে সবচেয়ে কম বোরো আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমের ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও রোপণের সময় থাকে। বীজতলা তৈরি থেকে রোপণ, পরিচর্যা ও ফলন ঘরে তুলতে সব মিলিয়ে সময় লাগে ১৫০১৫৫ দিন। আর কৃষি বিভাগ প্রান্তিক চাষিদের বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ, পরিচর্যাসহ অন্যান্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে। চাষিরা বলছেন, কয়েকবছর ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানির ধীরলয়ে কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে বিলম্ব হচ্ছে। একইসাথে হ্রদের জলেভাসা জমি ভেসে উঠতেও সময় লাগছে। এতে করে ধান গাছ রোপণ করতে দেরি হচ্ছে এবং ফলন আসতেও দেরি হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে ফসল ঘরে তোলার আগেই হ্রদে পানি বাড়তে থাকায় ফসল নষ্ট হচ্ছে চাষিদের। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত বোরো ধান আবাদ করেননি। যে কারণে এবার কৃষি বিভাগের বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। আবাদ কমায় উৎপাদনও কমে আসবে।

জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বোরো ধান চাষি উৎস দেবনাথ। তাদের পরিবারের বছরব্যাপী খাদ্যশস্য নিশ্চিত করা হয় মূলত বোরো আবাদের ফলন দিয়ে। তবে সামপ্রতিক কয়েকবছর বোরোর ফসল তোলার আগেই বর্ষায় ফসল নষ্ট হয়েছে। ফসলহানির কারণে এ উপজেলার অনেক কৃষক চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ কমিয়েছেন বলছেন তিনি। উৎস দেব বলেন, চলতি মৌসুমেও দ্রুত কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়তে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা না গেলে অনেক কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে খাদ্যশস্য ঘরে তোলা না গেলে বছরব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। সেক্ষেত্রে ঘাটতিতে পড়তে পারেন চাষিরা। দেরিতে হ্রদের পানি কমায় আমরাও কম আবাদ করেছি।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙামাটি কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি চলতি মৌসুমে দেরিতে

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৩০ দিনে ২১২ ফ্লাইট বাতিল
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬