রাউজানে ভাইদের হাতে প্রকৌশলী খুন

ফটিকছড়িতে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, মা আইসিইউতে

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ৫ এপ্রিল, ২০২৫ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে পৃথক ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিউতে রয়েছেন একজন। গত মঙ্গলবার রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নে ও গত বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ির ভূজপুরে ঘটনা দুটি ঘটে।

রাউজান : রাউজান প্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিতাগাজীর বাড়িতে ভিটার বিরোধ নিয়ে মায়ের দ্বিতীয় সংসারের ভাইবোনদের হাতে খুন হয়েছেন প্রকৌশলী নুরুল আলম বকুল (৪৫)

স্থানীয়রা জানান, প্রকৌশলী বকুলের মা সাইদা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়েছিল নগরের বায়জিদ এলাকায়। সেই ঘরে জন্ম বকুলের। বকুলের দুই বছর বয়সে তার বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হয়। পরে সাইদা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাউজানের হলদিয়ার নুরুল ইসলাম প্রকাশ মুছাকে। তখন নতুন স্বামীর ঘরে শিশু বকুলকে নিয়ে আসেন সাইদা বেগম। দ্বিতীয় সংসারে তিন ছেলে এক কন্যা সন্তান হয় সাইদার। নুরুল ইসলামের সন্তান পরিচয়ে বড় হয় বকুল। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরি নিয়েছিলেন নগরের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে। থাকতেন শহরে, ভিটায় নির্মাণ করেন পাকাঘর। ভাই বোনদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেন। কিন্তু কিছুদিন পর ভিটা ও পাকাঘর নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। সৎ ভাইবোনদের মধ্যে বকুলের পক্ষে থাকেন রাজু আহমেদ। ঈদের পরদিন দুপুরে দিকে ঘরে একটি কক্ষে ভিটা ও ঘর নিয়ে মা ও সৎ ভাই বোনদের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সৎ ভাইয়েরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা করে। তাকে কুপিয়ে সবাই পালিয়ে গেলে মুমুর্ষ অবস্থায় বকুলকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে চলে আসা এই বিরোধ মিটানোর চেষ্টায় অনেক বার সালিশ হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু সালিশ মানেনি বকুলের মা ও সৎ ভাই বোনরা।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই ঘটনায় থানায় নিহতের সৎ ভাই রাজু আহমেদ বাদি হয়ে ছয় জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করেছেন। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আছে।

ফটিকছড়ি : ফটিকছড়ি প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ফকিরা বন এলাকার ভোলা গাজীর বাড়িতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের মা লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তিনিও আশংকাজনক অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো রামদা দিয়ে আপন ছোট ভাই মো. মাসুম ও মা জুলেখা খাতুনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বড় ভাই মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াসিন। এ সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ প্রেরণ করা হয়। নিহত মাসুম ও অভিযুক্ত ইয়াসিন একই এলাকার আলী আহমেদের ছেলে।

এ ব্যাপারে কাজির মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জুনায়েদ বিন জালাল বলেন, যতদূর জানি জায়গা বেঁচার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুল হক বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। অভিযুক্ত ইয়াসিন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকালুরঘাটে রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন ১৪ মে
পরবর্তী নিবন্ধসড়ক প্রশস্ত না হলে দুর্ঘটনা কমবে না