চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যাচাই–বাছাই শেষে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপির আলোচিত এই দুই প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
এই আসনটিতে পাঁচজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিএনপির দুই প্রার্থী ছাড়া বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার।
এই নির্বাচনী আসনে ধানের শীষের দুই প্রার্থীরই মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কে থাকছেন নির্বাচনী মাঠে তা নিয়ে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে চলছে বাকযুদ্ধ। পাশাপাশি হাট–বাজার, বৈঠকখানা ও চা দোকানের আড্ডায়ও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী কে হচ্ছেন এই নিয়ে জল্পনা–কল্পনার শেষ নেই মানুষের।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তারা এমন প্রার্থী পেতে চান– যেই প্রার্থীর মাধ্যমে রাউজানে শান্তি–শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সন্ত্রাস নির্মূল হবে। এলাকায় উন্নয়ন হবে। মানুষ নির্ভয়ে ব্যবসা–বাণিজ্য করতে পারবে। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবেন। সন্ত্রাসমুক্ত রাউজান গড়ার ভূমিকা রেখে উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
গত প্রায় দেড় বছরে রাউজানের নানা ঘটনা প্রবাহ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সংঘাতপূর্ণ রাউজানের এই আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে গত প্রায় দুমাস থেকে চলেছে নানা নাটকিয়তা। বিএনপির দলীয় হাই কমান্ড প্রথম দফায় এই আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা থেকে বিরত ছিল। পরের দফায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাউজান আসনের প্রার্থী হিসাবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন। সর্বশেষ গোলাম আকবর খোন্দকারকে দলের মহাসচিব স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠিতে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে আগের হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়। গত ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির আলোচিত দুই নেতাই দলের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিবর্গের মতে, আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দল থেকে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হবে। এর মধ্যদিয়ে অপর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, রাউজানে ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির আলোচিত দুই নেতার মধ্যে দলের নির্বাচনী মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্বে বিরোধ চলে আসছে। তখন থেকে রাউজানে বিএনপির রাজনীতিতে কোন্দল বিরাজমান।











