রাউজানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর দিক ৯ ডাকাত আটক

রাউজান প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ৮:১৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তৎক্ষণাৎ স্থানীয় জনতা এবং পুলিশ মিলে ৯ জনকে আটক করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে সিটি গোল্ডের গহনা।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সংলগ্ন বদুপাড়া ইউসুফ মঞ্জিলে এই ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাজী মুহাম্মদ ইউসুফের ৬ ছেলে প্রবাসী বাবুল, মৃত মঞ্জুরুল কাদের, আনছারুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ হানিফের পরিবার বাড়িটিতে থাকেন। শবে কদরের নামাজ আদায় শেষে রাতে সকলে ঘুমিয়ে পড়েন।

বাড়ির ৩ তলার সিঁড়ি রুমে একটি ছোট ফটক রয়েছে। সেদিক দিয়ে ডাকাতরা প্রবেশ করে নিচে নেমে মূল দরজা খুলে দেয়। মুহুর্তের মধ্যেই ঘরে ৩০ থেকে ৪০জন ডাকাত প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইল কেড়ে নিয়ে।

পরে মারধর করে ৬ পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে আলমিরাসহ আসবাবপত্র ভেঙে নগদ আড়াই লাখ টাকা, প্রায় ২৩ ভরি স্বর্ণের গহনা, ঈদের কাপড় নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, শবে কদরের নামাজ শেষে আমরা পাশ্ববর্তী মসজিদে ছিলাম। হাজী ইউসুফের নাতি জোবায়েদ আজম মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরে দেখতে পায় অপরিচিত কিছু লোক বাড়ির সামনে। সে দৌড়ে মসজিদের মানুষকে ডাকতে আসার চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাকে ধরে ব্যাপক মারধর করে।

এক পর্যায়ে সে কোনরকমে পালিয়ে মসজিদের মুসল্লিদের ডাকে। এতে সবাই ছুটে এলে ততক্ষণে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ এলাকার বিভিন্ন মসজিদে ঘোষণা এবং গ্রুপে মেসেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করি। এতে এলাকার ছেলেরা গহনাসহ একজনকে আটক করে।

এ সময় টহল পুলিশ এসে জনতার সহযোগিতায় সকাল পর্যন্ত খৈয়াখালী এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ৭ জনকে আটক করে।

পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকা থেকে আরো ২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা বেশিরভাগই সিলেটের হবিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা।

প্রবাসী নজরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা আকতার বলেন, শবে কদরের নামাজ আদায় করে রাত ১টা ২০মিনিটের দিকে শুয়ে পড়ি। দেড়টার দিকে হঠাৎ শব্দ শুনি দরজায় কেউ আঘাত করছে। বিছানা থেকে উঠে গলিতে আসতেই ডাকাতরা ছুরি আর বটি দিয়ে গলায় ধরে। চুপ থাকতে বলে যা আছে দিয়ে দিতে বলে। নাকফুল খুলে নিয়ে আমাদের সবাইকে এক রুমের ভিতর বেঁধে আটকে রাখে। আমার জাঁ এর ছেলেকে মারধর করে৷

আমি বলি আমাদের মেয়েদের, বাচ্চাদের আঘাত করবেন না। তারপরও আঘাত করে। আমার দেড় ভরি সোনা ও নগদ ৭০ হাজার সহ পুরো পরিবারের অন্তত ২৩ ভরি সোনা এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সোনা লুটের কথা বললেও আমরা নগদ ৫হাজার টাকাসহ সিটি গোল্ডের ৩জোড়া চুড়ি, ১টি নেকলেস, জোড়া কানের দোল উদ্ধার করেছি। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুবাই কী নিরাপদ? প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ওড়নায় ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা