রাউজানে কোটি টাকায় নির্মিত ৪ কালভার্ট এখন আবর্জনার ভাগাড়

মীর আসলাম, রাউজান | শনিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৫ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের কাছে কাপ্তাই সড়কের দক্ষিণ পাশে কোটি টাকা বিনিয়োগে সরকারিবেসরকারি তিন প্রতিষ্ঠানের তিনটি বড় প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল সড়ক পাশের নালার ওপর চারটি কালভার্ট। প্রতিটি ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রশস্ত কালভার্ট চারটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় বাজারের ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চারটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক পথের আনুমানিক এক’শ মিটারের মধ্যে। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে করা কালভার্টগুলো নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় সোয়া কোটি টাকা।

স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ আবর্জনার ভাগাড় হয়ে ওঠা পরিত্যক্ত কালভার্ট থেকে দুগন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত হয়ে থাকা কালভার্টসমূহ নির্মাণের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, কাপ্তাই সড়কের সাথে রয়েছে সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক একর পতিত জমি। যুগে যুগে এসব জমি দখল ছিল স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে। অবৈধ দখলে থাকা এসব মূল্যবান জমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে সরকারি বেসরকারি কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তাবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য। সেখানে করার কথা ছিল সরকারের সমাজ সেবা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি প্রকল্প। অপর একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল সৌদি আরব ভিত্তিক ইসলামী এনজিও সংস্থা আল মানহিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন তিনটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাবেক সংসদ সদস্যের কাছে দাবি ছিল তাদের প্রকল্প এলাকায় যাতায়াতের সুবিধা করে দিতে হবে। নালার ওপর নির্মাণ করে দিতে হবে চারটি কালভার্ট। তিন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরণ করতে তখন কালভার্ট চারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালভার্ট নির্মাণ সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের জানিয়েছিল সেখানে হাইওয়ে থানা, খাদ্য গুদাম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। থাকবে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়। কিন্তু কালভার্ট নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও তারা বাস্তবে কোনো প্রকল্পই দেখছেন না।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রোকন উদ্দিনের সাথে মুঠো ফোন কথা বললে তিনি জানান, কাপ্তাই সড়কের পাশের নালা সাথে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক একর জায়গায় সমাজ সেবা অধিদপ্তর শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ রাউজান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও এনজিও সংস্থা আল মানহিল একটি বড় মসজিদসহ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। তারা সরকারি খাস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা নীতমালা মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন অথবা নেয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।

এ বিষয়ে জানতে সমাজ সেবা অধিদপ্তরে চট্টগ্রামের তৎকালীন উপপরিচালক শহিদুল আলম জানান, রাউজানের পাহাড়তলীতে শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জন্য জেলা প্রশাসক থেকে তারা সুনিদিষ্ট নীতিমালার আওতায় দুই একর জমি কিনে নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওই প্রকল্পটি আটকা পড়েছে। তৎকালীন সময়ে রাউজানে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ বলেছেন, সেই সময় সাবেক সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় তার দপ্তর থেকে দেয়া প্রকল্পে চারটি কালভার্ট নির্মাণে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্প এলাকার কি অবস্থা তিনি কিছু জানেন না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাতি রক্ষায় অভয়ারণ্যের করিডোরে বসছে সেন্সরযুক্ত রোবটিক ক্যামেরা
পরবর্তী নিবন্ধকনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও আবুল খায়ের কনডেন্সড মিল্কের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর