একটি বাস্তব চিত্র : ৪৫ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম। বছর তিনেক ধরে বাড়ছে তাঁর ওজন। সমপ্রতি পেটের ডান পাশে অস্বস্তি নিয়ে এসেছিলেন আমার চেম্বারে। পরীক্ষায় ধরা পড়ল, তাঁর ফ্যাটি লিভার। শুনে তিনি চিন্তিত –স্যার, রমজানে রোজা রাখলে কি আমার লিভারের সমস্যা বাড়বে? শফিকুল সাহেবের মতো এমন প্রশ্ন আজকাল অনেক রোগীর।
ফ্যাটি লিভার কী ও কেন হয়?
ফ্যাটি লিভার হলো লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়া। আমাদের দেশে এটি প্রধানত হয় –
* অতিরিক্ত ওজন * ডায়াবেটিস * রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকা *অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। গবেষণা বলছে, যাদের ওজন বেশি, তাঁদের ৯০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। শুধু তেলে ভাজা খাবার নয়, মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারও লিভারে চর্বি জমায়। শুরুর দিকে লক্ষণ না থাকলেও অবহেলা করলে এটি লিভারের প্রদাহ ও সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।
রমজানের রোজা : কী বার্তা দেয় বিজ্ঞান?
রমজানের রোজা এক ধরনের ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’– নির্দিষ্ট সময় উপবাস ও নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণ। গবেষণা বলছে, ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য রোজা অভাবনীয় উপকার বয়ে আনতে পারে। কীভাবে? দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীর জমানো চর্বি থেকে শক্তি নেয়। ফলে–
* শরীরের মেদ গলতে শুরু করে * লিভারের চর্বি কমে * ওজন ও বিএমআই কমে * লিভারের এনজাইমের উন্নতি ঘটে। শরীরের মাত্র ৫–১০ শতাংশ ওজন কমালেই লিভারের চর্বি অনেকাংশে কমে যায়। রমজান সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়।
সতর্কতা : লিভার সিরোসিস থাকলে রোজা ঝুঁকিপূর্ণ। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
ডুবো তেলে ভাজা খাবার –সমুচা, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, চিনির শরবত ও জিলাপি, কোমল পানীয়।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ












