প্রতি বছরই রমজান মাসে নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে পিডিবি, ওয়াসাসহ সরকারি সেবা সংস্থাগুলো আগেভাগে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। তারপরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করতে পারে না এসব সংস্থা। এবারও পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সারাদিন পানি সরবরাহ, সেহেরি ও তারাবি নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার প্রকৌশলীরা।
পিডিবির নানামুখী প্রস্তুতি : এদিকে পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পক্ষ থেকে আসন্ন রমজানে চট্টগ্রামে সর্বত্র নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উত্তর) শহীদুল ইসলাম মৃধা। তিনি আজাদীকে বলেন, আসন্ন রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আমাদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়েছে। আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে। তারপরও একটু ঘাটতি থাকতে পারে। ইতোমধ্যে আমাদের সাব স্টেশনগুলো মেন্টেইনেন্স করা হয়েছে। সঞ্চালন লাইনের দুইপাশে গাছের ডাল–পালা কাটা হয়েছে।
প্রতিটি ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য প্রকৌশলীদের রোস্টার করে দেয়া হয়েছে। আমরা যারা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা আছি আমরা খুলশী গ্রিড সিস্টেম কন্ট্রোল থেকে মনিটরিং করবো। সব মিলে আসন্ন রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আমাদের প্রতিটি ডিভিশনে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা : তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উত্তর) শহীদুল ইসলাম মৃধা বলেন, কাপ্তাই লেকে পানির স্তর কমে গেছে। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪টি ইউনিট বন্ধ; ৪৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু আছে। রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট ২০২২ সাল থেকে এবং ১ নম্বর ইউনিট ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২৪ মেগাওয়াটের রিজন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট, জুলধা ১ নম্বর ইউনিটও বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রস্তুতি : চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন আজাদীকে বলেন, রমজানে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ওয়াসার পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমাদের ৪টি মড–এ ৪টি কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। মড–১ আগ্রাবাদ, মড–২ জুবলী রোড, মড–৩ মেহেদীবাগ, মড–৪ কালুরঘাট। এছাড়াও ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। পানি সরবরাহ যেন সার্বক্ষণিক চালু থাকে। পানির ভাউচার থাকবে।
শুষ্ক মৌসুমে কর্ণফুলী ও হালদার পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন আজাদীকে বলেন, তারপরও পবিত্র রমজানে নগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকবে।