যে দল অপমান করে, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নারীদের প্রতি আহ্বান

খুলনায় তারেক রহমান

| মঙ্গলবার , ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ

যাদের কাছে মানুষের মূল্যায়ন নেই, তাদের কাছে দেশ কখনো নিরাপদ হতে পারে না বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকে বাংলাদেশের তাবৎ মাবোনদেরকে বলব আমি, যারা আপনাদেরকে এভাবে অপমানিত করে, তাদেরকে আপনারা কীভাবে জবাব দেবেন, আজ সেই সিদ্ধান্ত নেবার সময় এসেছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া নারী বিদ্বেষী পোস্ট ঘিরে উত্তাপের মধ্যে গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে এক নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য আসে। তারেক বলেন, যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনকভাবে কথা বলে, তাহলে আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আজকে নির্বাচনে যদি তারা কোনোভাবে সুযোগ পায়, নির্বাচন পরবর্তী সময় তাহলে তাদের আচরণ কী হতে পারে? এরা শুধু নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতন করে ধর্মকে ব্যবহার করে।

জামায়াতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে খুলনার জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ, তারা পরিষ্কারভাবে বলেছে যে আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এভাবে মিথ্যা কথা বলছে, দলটি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে তাদের আইডি বলে হ্যাক হয়ে গিয়েছিল, অথচ আইডি হ্যাক হয়নি তাদের। এরা নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের সামনে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে, মিথ্যা কথা বলছে। এদের একটাই পরিচয় এরা মিথ্যাবাদী।

তারা নারীদের বন্দি করতে চায় : জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল এই যে বাংলাদেশের অর্ধেক গোষ্ঠী নারী, কীভাবে তাদেরকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সেই কথা তারা বলেছে। আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে দুদিন আগে বলেছে যে, যে সকল মহিলা যে সকল মাবোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে, কর্মসংস্থানের জন্য যান, তাদেরকে ুপ্রিয় ভাইবোনেরা, আপনাদের সামনে আমার বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে, এমন একটি শব্দ, সে আমাদের মাবোনদের জন্য ব্যবহার করেছে, যা এই দেশের জন্য একটি কলঙ্কস্বরূপ।

বিএনপি নেতা বলেন, এই বাংলাদেশে খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের অধিকাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকে। এই বাংলাদেশের ৫০ লক্ষের ও উপরে নারী, আজ যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সকলে গৌরব করে, সেই গার্মেন্টস শিল্পে নারী শ্রমিকরা কাজ করেন। কিন্তু আজ আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদেরকে কীভাবে অসম্মানিত করেছে, তাদেরকে খারাপ ভাষা দিয়ে অসম্মানিত করেছে।

মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজাও যে একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন, তিনি যে ব্যবসায়ী ছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাহলে আজকে কোথায় গিয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের নারী সমাজ? তাবৎ পৃথিবীর নারী সমাজকে কীভাবে অপমান করা হলো!

সেই দলটি (জামায়াতে ইসলামী) নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায় মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি, অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয় সেজন্যই আমরা বলেছি ইনশাআল্লাহ আপনাদের দয়ায় আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গৃহিণীর কাছে প্রত্যেকটি মায়ের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে এই নারী সমাজ কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়; যাতে করে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।

জামায়াতের নারীকর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন : জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনারাও তো ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যাচ্ছেন। ঘর থেকে বের হয়ে যে নারী কাজে যায়, তাকে আপনাদের নেতা কীসের সাথে তুলনা করেছে? চিন্তা করে দেখুন। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, ওই দলের যারা নারী সদস্য আছে তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কী? তাদের নেতার বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কী?

তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতা নিজের দলের নারীকর্মীদেরকে এভাবে অপদস্ত অপমানিত করতে পারে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ নারীদেরকে, সাধারণ মাবোনদেরকে তারা কীভাবে অপদস্ত অপমানিত করবে, তার উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালেই দেখেছিলাম। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মাবোনদেরকে অসম্মানিত করেছিল এই দলটির পূর্বসূরি নেতৃবৃন্দ। কাজেই যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই, যাদের কাছে মানুষের কোনো আত্মসম্মান বোধ নেই, তাদের কাছে কখনো দেশ নিরাপদ হতে পারে না, তাদের কাছে কখনো দেশের মানুষ নিরাপদ হতে পারে না নারীপুরুষ নির্বিশেষে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় এসে এই নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মঞ্চে উঠলে নেতাকর্মীসমর্থকরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। তারেক রহমান হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ধানের শীষের ১৪টি আসনের প্রার্থীরা এই জনসভা মঞ্চে ছিলেন। বিএনপি নির্বাচিত হলে খুলনায় আইটি পার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

ষড়যন্ত্র : ভোটারদের সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, আমরা খেয়াল করছি একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, এবার ভোট গণনাতে বলে অনেক সময় লাগবে। শুনেছেন এই কথা আপনারা? ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার শুরু করেছে। এই যে যাদের কথা বলেছি প্রথমে, যারা জনগণের সামনে সকালবিকাল মিথ্যে কথা বলছে, যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বিভিন্নভাবে, কারণ তারা জানে, তাদের এইসব কথাবার্তা, তাদের এইসব কাজকর্ম, এইসব ফাঁকিবাজি মানুষ ধরে ফেলেছে এবং সেইজন্যই তারা বিভিন্ন ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দর ও বাণিজ্যিক রাজধানী নিয়ে কথা বললেন চট্টগ্রামের নেতারা
পরবর্তী নিবন্ধকিছু মানুষ বন্দর বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে, এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না