যুবলীগে চাঁদাবাজ ভূমিদস্যু ইয়াবা ব্যবসায়ীর স্থান হবে না

মহানগর যুবলীগের বর্ধিত সভায় ব্যারিস্টার নাঈম ।। মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ড ও থানায় তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু, ইয়াবা ব্যবসায়ীর স্থান যুবলীগে হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম। তিনি বলেন, ভালো ছেলেদেরকে ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদেরকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা সবাই রাজনীতি করব। গ্রুপিং থাকা খারাপ না, গ্রুপিং একটা জায়গায় থাকতেই পারে। আপনার আমাকে পছন্দ নাও হতে পারে। বাট প্রতিযোগিতা হতে হবে সুস্থ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে যদি কাউকে কর্নার করা হয় সেটা যুবলীগ মেনে নেবে না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত মহানগর যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেড়টায় শুরু হওয়া রুদ্ধদ্বার এই সভা চলে রাত পর্যন্ত। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা কমিটির প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন। যেসব ওয়ার্ড ও থানা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেখানে আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, আপনারা যদি মনে করেন যুবলীগ করবেন, তাহলে এটাই ভালো সময়। কোনো কিছুর বিনিময়ে যুবলীগে কেউ ঢুকতে পারবে না। যদি রাজনীতিতে অবদান রাখতে চান, যদি রাজনীতিতে সৎ থাকতে পারেন, তাহলেই যুবলীগে স্থান পাবেন। এতটুকু আপনাদেরকে আমরা কমিটমেন্ট করতে পারি। আমাদের তরফ থেকে কখনো জানা অবস্থায় কোনো ভুল হবে না ইনশাল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকে আমাদের সহায়তা করছেন। আমাদের মাথায় হাত রেখেছেন। শেখ ফজলে শামস পরশ আমাদের সাহস দিচ্ছেন। আমাদের এটা বুঝতে হবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তি করব। শেখ ফজলে শামস পরশের হাতকে শক্তিশালী করব। যুবলীগকে শক্তিশালী হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভার শুরুতে শেখ ফজলে নাঈম বলেন, প্রথমেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যাঁর জন্ম না হলে আমরা এখানে বসে এই বর্ধিত সভা করতে পারতাম না। আওয়ামী লীগ নামক কোনো দলই থাকত না। যুবলীগ থাকত না, ছাত্রলীগ থাকত না। আমরা কেউই থাকতাম না। এই জিনিসটা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। আমরা সবাই বলি আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আমরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনায় রাজনীতি করি। এটা যখন বলি তখন এই আদর্শ সত্যিই ধারণ করি কিনা সেটা আমাদের বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কোন মাপের নেতা ছিলেন আমরা সবাই জানি। আমরা তো বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি। আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি। আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি। মায়ের কাছ থেকে শুনেছি। এখনো যখন বাবা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলেন তখন উনার চোখে পানি চলে আসে। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে অনেক আগে। এখনো কিন্তু উনার প্রতি ভালোবাসা রয়ে গেছে দেশের প্রতিটি মানুষের মনে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কপাল খারাপ বলে বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। ঠিক তেমনি আমাদের কপাল অত্যন্ত ভালো যে, উনারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা নেতা হিসেবে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গড়ছেন। বঙ্গবন্ধু যে রকম তার জনগণকে ভালোবাসতেন, বাংলার মানুষকে ভালবাসতেন, ঠিক তেমনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ভালোবাসেন, দেশের জনগণকে ভালোবাসেন। ২১/২২ বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি একবার সুযোগ পেয়েছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার। জানতে চেয়েছিলাম ‘ফুফু, তোমার কি ভয় করে না? তিনি আমাকে একটা কথা বলেছিলেন, এই পৃথিবীতে আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছিলেন মানুষের কল্যাণে কিছু কাজ করার জন্য। কাজগুলো যতক্ষণ সম্পূর্ণ না হবে ততক্ষণ আমার কিছু হবে না। তুই চিন্তা করিস না।’ এই হচ্ছেন আমাদের নেত্রী। আজকে যদি উনি না থাকতেন তাহলে এই যে উন্নয়ন দেখছেন কিছুই হতো না। আজকে আমরা নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। মেট্রোরেল হচ্ছে। চট্টগ্রামে আপনারা জানেন কী থেকে কী হয়ে গেছে। ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ঢাকা কী থেকে কী হয়ে গেছে। পুরো বাংলাদেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে কার নেতৃত্বে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমাদের দায়িত্ব উনি যেসব কাজ করছেন সেসব মানুষের কাছে তুলে ধরা।
ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ অনেক শক্তিশালী একটি সংগঠন, সেটা আমরা জানি। তৃণমূলকে আরো বেশি সংঘটিত করে তুলতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমরা দেখছি চারদিকে ষড়যন্ত্র চলছে। জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর বাকি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেসব কাজ করছেন সেগুলো যখন মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, আওয়ামী লীগের ওপর দেশের মানুষ যখন ভরসা পাচ্ছে, ঠিক তখনই বিএনপি-জামায়াত তাদের বিষদাঁত বের করেছে। আমার বিশ্বাস, বিএনপি-জামায়াতের বিষদাঁত ভেঙে দিতে যুবলীগই যথেষ্ট।
বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু। মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকার সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ বদিউল আলম। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ ও আ.ম.ম. শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ ক্রীড়া সম্পাদক মো. আবদুর রহমান প্রমুখ। বক্তব্য রাখেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, দিদারুল আলম দিদার ও মাহবুবুল হক সুমন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচমকহীন পঞ্চম দিন
পরবর্তী নিবন্ধআলোকচিত্রে সন্ত্রাসের ক্ষত