মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার রাতের মধ্যেই ইঙ্গিত মিলবে) ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে (সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস) নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি বিরোধী ডোমোক্র্যাট শিবিরে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তাহলে আগামী দু’বছর চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে ট্রাম্পকে। তাদের সমর্থন ছাড়া ওই কক্ষে কোনও আইন পাস করতে পারবে না সরকার। ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে দুঃসংবাদ হবে, সে ক্ষেত্রে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পর (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে। তবে এসব ফল থেকে সার্বিক চিত্র বোঝা যাবে না। কারণ যেসব এলাকার ফল আগে আসবে, সেগুলোতে নির্দিষ্ট দলের জয়ের সম্ভাবনা আগে থেকেই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে সেনেটের কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। এর মধ্যে ওহাইওতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায়) এবং মেইনে রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টা) ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। এসব আসনের ফল ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরু হওয়ার ঠিক আগে ইরানের হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনও হামলা চালানো হবে না বলে এর আগে ঘোষণা দিলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থান বদল করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, এটি কোনও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বা বড় সামরিক অভিযান নয়, বরং ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা সীমিত করার একটি তাৎক্ষণিক কৌশলগত পদক্ষেপ।
ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে তা নিশ্চিত করতে এ বারই প্রথম ৫০টি প্রদেশের সবকয়টি বুথে নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন বিচারবিভাগ। আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একাধিক চেষ্টা চালিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব চেষ্টা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে আদালতে মামলা হয়েছে। এসব মামলার নিষ্পত্তি নির্বাচনের দিন পেরিয়ে ভোট গণনা ও ফল চূড়ান্ত করার সময় পর্যন্ত গড়াতে পারে।
আগের মতোই ট্রাম্প নির্বাচন বৈধ হবে কি না, তা নিয়ে নিজের সন্দেহ আরও জোরালো করেছেন। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রিপাবলিকান পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন কি না। জবাবে তিনি, ‘নির্বাচন সৎ হলে আমি মেনে নেব।’
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে, সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে এবং অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ভোট হচ্ছে। এসব পদের মধ্যে গভর্নরও রয়েছেন। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষই নিয়ন্ত্রণ করছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ডেমোক্র্যাটরা পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হয়ে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চাইছেন।
নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২১ কোটির সামান্য বেশি। তার মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লক্ষের বেশি ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দের গিয়ে বা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আগাম ভোট দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতোই চার বছর অন্তর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়।
সাধারণ ভাবে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি নকশা মেনে চলে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই কিছুটা আসন কমে যায় ক্ষমতাসীন দলের। সেই হিসাবে এ বার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কিছুটা স্বস্তিতে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদি কোনও মধ্যবর্তী নির্বাচনে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে, শাসকদলই কংগ্রেসে বেশি আসন জেতে (মার্কিন রাজনীতিতে বেশ কয়েক বার সে রকম ঘটেছে), তা হলে তা প্রেসিডেন্টের সমর্থনে বিপুল গণভোট বলেই ধরা হয়।











