যমুনা অয়েল কোম্পানির সিবিএর সভাপতি এবং সম্পাদকসহ তিনজন শীর্ষ নেতাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দীর্ঘদিন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল যমুনা অয়েল কোম্পানি। অবশেষে গতকাল লেবার ইউনিয়নের তিন শীর্ষ নেতাকে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া নেতারা হলেন সিবিএ সভাপতি মোহাম্মদ আবুল হোসেন, কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন টুটুল এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার ও কারাগারে থাকার পরও তারা চাকরিতে বহাল থাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা–সমালোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে অতীতে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাময়িক বরখাস্তের নজির থাকলেও এদের ক্ষেত্রে মাসের পর মাস গত হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে।
যমুনা অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২০ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে ১২ ডিসেম্বর নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করে। তাকেও একই সময়ের সহিংসতার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন। কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল গত বছরের জুলাই–পরবর্তী পরিস্থিতির পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর দশম অধ্যায়ে উল্লেখ আছে, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলে বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রয়োগ করে অবশেষে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিজিএম (এইচ আর) মোহাম্মদ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক পত্রে উপরোক্ত তিনজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। উপরোক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি মামলাই নয়, যমুনা অয়েল কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এই তিনজনসহ শ্রমিক নেতাদের অনেকেই দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়লেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।












