মৃত্যুর ৯ মাস পর দুর্নীতির দায়ে সাজার রায়

| বুধবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক এক কর্মচারীর সাজা ঘোষণার পর জানা গেছে তিনি নয় মাস আগেই মারা গেছেন। সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে বন্দরের সাবেক নিরাপত্তা পরিদর্শক আবুল বশর চৌধুরীকে দুটি ধারায় মোট সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের মামলায় গত রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মুনসী আবদুল মজিদ এ রায় দেন। খবর বিডিনিউজের।
আদালতের কাছে আবুল বশরের মৃত্যুর তথ্য ছিল না। এমনকি তার আইনজীবীও তা জানতেন না। মঙ্গলবার পর্যন্ত আদালতে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদনও করা হয়নি। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার গোবিন্দর খিল গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ চৌধুরীর ছেলে আবুল বশর চৌধুরী।
আবুল বশরের ছেলে শাওন চৌধুরী বলেন, আমার বাবা ২৩ ডিসেম্বর মারা গেছেন। সেদিনই হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে বাবার জানাজা ও দাফন হয়েছে। আমরা আইনি বিষয়গুলো কি করতে হবে তা জানতাম না। তাই আদালতে জানাতে পারিনি। আজ রায়ের বিষয়টা জানতে পেরে বিকালে আদালতে গিয়েছি। আদালতের কর্মচারীদের সাথে আলাপ করেছি। তারা পরবর্তী প্রক্রিয়া কি করতে হবে বলেছেন। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে জানাব বাবা মারা গেছেন।
জানতে চাইলে দুদকের সরকারি কৌঁসুলি কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, কোনো মামলার আসামি মারা গেলে সেটা আদালতকে জানাতে হয়। অবহিত করলে সেক্ষেত্রে মামলা আর চলে না। কিন্তু আদালতের খাতায় তিনি পলাতক আসামি। স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তার সাজার রায় হয়েছে। দুদকের এই আইনজীবী বলেন, ওনার পরিবার বা আইনজীবী কেউ আমাদের জানাননি যে, তিনি মারা গেছেন। তিনি নিয়মিত মামলায় হাজিরা দিতেন। কিন্তু শেষ কয়েকটি নির্ধারিত দিনে তিনি আর আসেননি।
মামলার নথিতে দেখা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামলার নির্ধারিত শুনানির দিনে হাজির ছিলেন আবুল বশর চৌধুরী। এরপর চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তিনি হাজির না হলে তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। ১৪ মার্চও ধার্য দিনে আবুল বশর চৌধুরী হাজির না হওয়ায় ১৮ মে তার জামিন বাতিল করে আদালত।
বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুসা জানান, পলাতক আবুল বশর চৌধুরীকে গ্রেপ্তারে পটিয়া থানায় পরোয়ানা পাঠানো হয়েছিল। তবে সেটি তামিল হয়নি। এই মামলায় ৪ অগাস্ট সর্বশেষ সাক্ষ্য-জেরা হয়। ১৪ অগাস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয় আদালতে। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়। আসামি আবুল বশরের আইনজীবী রতন কুমার চক্রবর্তী বলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। খুবই অসুস্থ ছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হত। শেষ যেদিন তিনি আদালতে আসেন সেদিন তিনি বসতেও পারছিলেন না। তখন আমি আদালতের কাছে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করি। আদালতও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু এরপর তিনি আর আসেননি। তিনি বলেন, নির্ধারিত শুনানির দিনে না আসায় আমরা সময়ের আবেদনও করি। পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তাদের মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে তার জামিন বাতিল হয়ে যায়। তিনি যে মারা গেছেন সেটা পরিবার বা আত্মীয়-স্বজন কেউ আমাদের না জানানোয় আদালতকে তা অবহিত করতে পারিনি।”

পূর্ববর্তী নিবন্ধমালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রোহিঙ্গাসহ আটক ২২
পরবর্তী নিবন্ধমিয়ানমারে হেলিকপ্টার থেকে স্কুলে গুলি ১১ শিশু নিহত