মীরসরাইয়ে যুবদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০

মীরসরাই প্রতিনিধি | বুধবার , ১ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

মীরসরাই উপজেলার করেরহাট এলাকায় গাছ ও বালু বোঝায় গাড়ি থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুগ্রুপে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে যুবদলের সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল, মো. ফারুক বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বারইয়ারহাটখাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে পূর্বদিক থেকে আসা কাঠ বোঝায় ট্রাক থেকে ১ হাজার ও বালু বোঝায় ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মাসুদ কালার নেতৃত্বে টাকাগুলো তোলা হতো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আলমগীর ও মাসুদ কালাকে সরিয়ে সেখানে নুর উদ্দিনসহ কয়েকজনকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে দুগ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছে। মঙ্গলবার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের উপর হামলা করে আলমগীরের লোকজন। হামলার খবর পেয়ে তার পক্ষের লোকজন ছুটে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরেস্ট অফিস এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ট্রাক, বালুর গাড়ির টাকা উত্তোলন, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা বরখাস্ত