মীরসরাইয়ের বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে পাহাড়ি এলাকা। তবে এসব এলাকায় সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে পাহাড় কাটা। এর মধ্যে করেরহাটের কয়লা এলাকায় বেশি চলছে অবৈধ এ কাজ। কখনো দিনে কখনো রাতে, চলছে পাহাড় কেটে সাবাড় করার প্রতিযোগীতা। প্রশাসন কখনো কখনো অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেন, জব্দ করেন যন্ত্রপাতি। এরপর কয়েকদিন বন্ধ থাকে। কিন্তু আবারো নানা কৌশল বের করে শুরু হয় পাহাড় কাটা।
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা ঝিলতলি এলাকায় প্রতি বছর সরকার রাজস্ব দিয়ে ছরা থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা দিয়ে থাকে। তবে চলতি মৌসুমে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবুও সেখানে বালু তোলা অব্যাহত থাকে। পরে মীরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পুনঃ ইজারা দেয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় বালু তোলা। কিন্তু ইতিমধ্যে বালু মহালের বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও কোনো প্রকার অনুমতি বা অনুমোদন ব্যতিরেকে উক্ত এলাকার বিভিন্ন পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সম্প্রতি বদ্ধ ভবানি এলাকায়ও ৩০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়ের প্রায় এক একর কেটে সাবাড় করে দিয়েছে স্থানীয় একটি চক্র। সরেজমিনে জানা যায়, উক্ত বদ্ধ ঝিলতলি, কয়লা ও সোনাইছড়ি এলাকায় বিভিন্ন বাড়িঘরের পাশ্বে বা বসতির পাদদেশের পাহাড়গুলো কিছু সিন্ডিকেট কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। দিনে কারো চোখে পড়বে বলে এখন রাতেই কাটছে এসব পাহাড়। এ সময় এলাকার বিভিন্ন বাড়ির ভেতরে ঘরের ভিটের অংশ রেখে বাকি পাহাড় কেটে বিক্রি করছে। কোথাও বসতি সৃজন করে অন্য পাশ দিয়ে রাস্তা করার সুযোগ থাকলেও ইচ্ছে করেই পাহাড় কেটে রাস্তা করে সেই মাটি বিক্রি করছে সিন্টিকেটের কাছে। নিজের বাগান, নিজের বাড়ির নানা অজুহাত সৃষ্টি করে কৌশলে একের পর এক পাহাড় সাবাড় করতেই দেখা গেছে করেরহাটের ঝিলতলি ও কয়লা গ্রামে। এছাড়া দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর, মহামায়া সংলগ্ন এলাকা, ওয়াহেদপুর এলাকার বাওয়াছরার পথে, পূর্ব খৈয়াছরার অনেক স্থানেও একই চিত্র দেখা গেছে।
এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাথে সাথেই অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত করে থাকি। মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে কয়েক দফা পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শীঘ্রই আবারো অভিযান পরিচালিত হবে।
বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, পাহাড় কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমরা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। বদ্ধ ঝিলতলিসহ আমাদের এলাকায় এখন থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হবে।
এই বিষয়ে করেরহাটের ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, কিছু সুযোগ সন্ধানী অসাধুচক্র এইসব অপকর্ম করছে বলে জেনেছি, প্রশাসন তৎপর হলে এমনটা বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
মীরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উক্ত এলাকায় পূর্বেও অভিযান পরিচালনা করে সকল প্রকার মাটি কাটা বন্ধ করেছি। আবারও অভিযান পরিচালিত হবে। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় ও গুরুতর অপরাধ। এই বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।












