চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে এবার মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি–জামায়াত। অবশ্য ৯০এর দশকের তৎকালীন প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সাথে সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিল জামায়াত। কিন্তু এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে বিএনপির মুখোমুখি হলো জামায়াতে ইসলামী। অর্থাৎ ধানের শীষের সাথে দাঁড়িপাল্লার লড়াই হবে। এই আসনটি ধানের শীষের দুর্গ হিসাবে আশির দশক থেকে একটি দুর্ভেদ্য জনপদ। সেখানে এবার মাঠে আওয়ামী লীগও নেই। তাই ধানের শীষের বিজয়ের ক্ষেত্রে তেমন প্রতিবন্ধকতা আর নেই বলা চলে। তবে জামায়াতেরও এখানে বিপুল পরিমাণ ভোট রয়েছে। আবার পূর্বের তুলনায় জামায়াত এখানে অনেক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে তাই তাদেরও প্রত্যাশা অনেক।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাথে শরিক দল হিসেবে থাকার কারণে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশের কারণে চট্টগ্রাম–১ ( মীরসরাই) আসনে জামায়াত ইসলামী এখানে সরাসরি আর ভোটের মাঠে থাকেনি। এবার দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় অবশেষে বিএনপির সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতকেই মাঠে দেখা যাচ্ছে।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট– বাজার সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মীরসরাইয়ে সর্বশেষ প্রার্থী রয়েছেন ৭জন। তার মধ্যে প্রধানতম প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানকে। এছাড়া আরো ৫ প্রার্থী যথাক্রমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম (আপেল), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল), মুসলিম লীগ প্রার্থী শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী (হাতপাঞ্জা) এবং জাসদ (আসম আবদুর রব) মনোনীত প্রার্থী একেএম আবু ইউসুফ (তারা)।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ৬৬,৯৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ৪৮,০৩০ ভোট। জামায়াতের সামছুদ্দিন পেয়েছেন ১০,৬০৫ ভোট।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপির থেকে খালেদা জিয়া ৬৬,৩৩৬ ভোটে বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পান ৪৮,২৪২ ভোট। জামায়াতের বদিউল আলম পান ৬,১০২ ভোট।
বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ– বিএনপি সমানে সমান লড়াই করলেও জামায়াত এখানে সাংগঠনিকভাবে কম শক্তিশালী ছিল না। এদিকে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর দলের প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। ভোটারদের মনেপ্রাণে সঞ্চার হয় নতুন উদ্যম। তাই সকল প্রতিযোগিতা ছাপিয়ে এখানে এখন ধানের শীষ তথা বিএনপিই বিজয়ের মালা পরতে পারে বলে বিএনপির ভোটার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এদিকে বিজয় অর্জনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থীও। জামায়াত ইসলামী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। মানুষও এবার তাদের যথেষ্ট সাড়া দিচ্ছেন। তাই তারাও বিজয়ের সম্ভাবনায় দিন গুণছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টি গত কয়েক দশক ধরেই সাংগঠনিক কাঠামো হারানো। এবারও মনোনয়ন প্রাপ্তির আগে বা পরে দলীয় কোনো শোডাউন দেখাতে পারেনি প্রার্থী বা সাংগঠনিক কেউ। এবারের সংসদ ভোটকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা, মুসলিম লীগের হাতপাঞ্জা, ইনসানিয়ত বিপ্লবের আপেল, জাসদের তারা প্রতীকের পৃথক পৃথক টিমের প্রচারণাও লক্ষ্যণীয়।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, সবকটি কেন্দ্রেই এবার সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থাকা ও সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ মোতায়েনসহ পর্যাপ্ত আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে এবার দেশে একটি মডেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, মীরসরাইয়ে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮৬,৬০৫জন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস দীর্ঘদিন ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত মীরসরাই উপজেলার সাধারণ মানুষ এবার তাঁদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মাটি ও মানুষের দল। আর সেই প্রিয় দলের প্রার্থী হিসেবে মীরসরাই উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইনশাআল্লাহ আমাকে জয়যুক্ত করবেন। আর জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।
জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, এবার জনগণ তাদের ভোটের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছে। আমরা দলমত নির্বিশেষে সকলের অধিকার সুরক্ষায় আমাদের পক্ষে সকলের ভোট প্রত্যাশা করছি। জাতীয় পার্টির প্রার্থীর প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, মরহুম রাষ্ট্রপতি হোছাইন মোহাম্মদ এরশাদই মীরসরাইয়ের উন্নয়নের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন মুহুরী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। যার উপর নির্ভর করেই আজ অর্থনৈতিক জোন সহ বিশাল কর্মকাণ্ড। তাঁর স্মৃতি ও কর্মকাণ্ডকে স্মরণ করে মীরসরাইবাসী লাঙ্গলে ভোট দিবেন এই প্রত্যাশা রাখছি।












