মিয়ানমারকে ফায়দা লুটতে দেব না রাষ্ট্রদূতদের ডেকে জানাল ঢাকা

| বুধবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশের অবস্থান ঢাকায় প্রায় সব দেশের মিশন প্রধানদের ডেকে জানিয়ে দিল সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনৈতিক এ ব্রিফিংয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশের বাইরে অন্য সব দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদেরকে সীমান্ত উত্তেজনার বিষয়ে ব্রিফ করেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম। আগের দিন সোমবার আসিয়ানভুক্ত সাত দেশের মিশন প্রধানদের একই রকম ব্রিফ করেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল মিশন প্রধানদের ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকে যারা এসেছিলেন, অন্যান্য রাষ্ট্রদূতগণ তাদেরকেও আমরা একই জিনিস বলেছি যে, রোহিঙ্গাদের নিয়েছি পাঁচ বছর হয়ে গেল, তারা একটা রোহিঙ্গাও আজ পর্যন্ত ফেরত নেয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন যে, আমরা ধৈর্যের সাথে কাজ করতেছি। আসলেই, আমরা ধৈর্যের সাথে কাজ করতেছি। কিন্তু আমরা এমন কিছু করি নাই, যার জন্য মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের যে জনগণ, যারা আমাদের সীমান্তের ভিতরে আছে, তাদের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে এবং তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না, তাদের ধানক্ষেতে যেতে পারবে না, তাদের ঘরবাড়িতে থাকতে পারবে না, এটা তো চলতে দেওয়া যায় না। এই কারণে আমরা তাদের কাছে বলেছি যে, আপনাদের সাহায্য আমরা চাই, যাতে করে মিয়ানমার এ অঞ্চলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে ফায়দা লুটতে না পারে, যাতে এই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে না হয়।
বাংলাদেশ যে চরম ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির ওপর রজর রাখছে, সে কথা কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা কোনোভাবে চাই না এখানে জড়িত হতে, যাতে করে এখানে জড়িত হলে মিয়ানমার হয়ত সুযোগ পাবে, এই রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার জন্য অজুহাত পাবে, সেই রকম কোনো অজুহাত আমরা মিয়ানমারকে এই মুহূর্তে দিতে চাচ্ছি না।
কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের যে মতামত, তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করছে খুব… এই যে চরম ধৈর্য আমরা দেখাচ্ছি এবং মিয়ানমারের কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না, এটাকে তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। এবং তারা বলেছে, তারা তাদের ক্যাপিটালে এই জিনিসগুলো জানাবে এবং যাতে করে ভবিষ্যতে যদি কোনো কিছু করণীয় থাকে, বিশেষ করে জাতিসংঘে যদি কোনো কিছু করণীয় থাকে, তারা আমাদেরকে সে বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে।
মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে এদিকে গোলা পাঠাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা আমাদের ধর্তব্যের বিষয় না। ইচ্ছা করে করুক বা যা কিছুই করুক, আমরা যেটা বলি যে, এটা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে ফেলবে। কাজেই মিয়ানমার সরকারকে এটা বুঝতে হবে, তাতমাদোকে (মিয়ানমারের সেনাবাহিনী) বুঝতে হবে যে, তারা যেটা করতেছে… বাংলাদেশ হইল পশ্চিমে, দক্ষিণে হইল মিয়ানমার আর্মি, উত্তরে হইল আরাকান আর্মি। তো, তাদের গোলা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসার তো কথা না, পশ্চিমে তো আসার কথা না। ভৌগোলিকভাবে এটা হয় না, যদি কেউ ইচ্ছাপূর্বক না করে।
খুরশেদ আলম বলেন, ইচ্ছাপূর্বক আমাদেরকে এই কনফ্লিক্টে জড়ানোর যে প্রচেষ্টা, সেটা আমরা (ব্রিফিংয়ে) বলছি যে, আমরা এই প্রচেষ্টায় জড়িত হব না। আমরা আপনাদেরকে এটা অবহিত করলাম, আপনারা যে অ্যাকশন নেওয়া মনে করেন, যথাযথ মনে করবেন, সেটা আপনারা নেবেন।
কূটনৈতিক পর্যায়ের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নে খুরশেদ আলম বলেন, আমরা সর্বস্তরেই মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ রাখতেছি, যাতে করে মিয়ানমার বুঝতে পারে যে, এই রকম একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা তাদের জন্য যেমন বিপদজ্জনক, বাংলাদেশ কোনোভাবেই এটা সঠিকভাবে গ্রহণ করবে না।
সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ওদের ভেতরে তো গোলাগুলি হচ্ছেই, সেটা অন্য জিনিস। সীমান্তে মর্টার হামলার দায় আরাকান আর্মি ও আরসার ওপর চাপানো এবং বাংলাদেশের ভেতরে তাদের ঘাঁটি থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে খুরশেদ আলম বলেন, এটা মিয়ানমার আজকের কথা না, তারা প্রথম থেকেই এ ধরনের কথা বলে আসতেছে। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে নীতি সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণুতা, আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি। কাজেই অন্য দেশের কাউকে বাংলাদেশে স্থান দিয়ে মিয়ানমারকে অস্থিতিশীল করার অভিপ্রায় আমাদের কোনোদিন ছিল না, এখনো নাই, ভবিষ্যতেও থাকবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাসিরাবাদে ১০ কোটি টাকার সরকারি জায়গা উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধপবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ