মিলন কান্তি দে যাত্রাজগতের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন

নাট্যমঞ্চ ও শৈলী আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা

| শুক্রবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

নাট্যমঞ্চ ও শৈলী আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, মিলন কান্তি দে সমস্ত জীবন যাত্রাশিল্পে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের যাত্রাজগতের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। নিজেকেও তাই তিনি ভাবেন একজন ‘যাত্রাওয়ালা’ হিসেবে। যাত্রাশিল্প যখন ক্রমে অস্তমিতপ্রায়, তখন মিলন কান্তি দে ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি বিশ্বাস করতেনএই লোকজ শিল্পই বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক মৌল ভিত্তি। ‘আমি যে এক যাত্রাওয়ালা’ গ্রন্থে’ মিলন কান্তি দে তার ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কিংবদন্তি এই শাখা যাত্রাপালার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিচিত্র কথকতা তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে একজন যাত্রাশিল্পীর জীবনসংগ্রামের ধারায় পাঠক পরিচিত হলেন বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর যাত্রাদুনিয়ার সঙ্গে। মূলত বাংলাদেশের যাত্রাশিল্পের পেছনের ইতিহাসতার ভেতরকার মানুষদের সুখদুঃখের কথা মিলন কান্তি দের প্রত্যক্ষ বর্ণনায় পাঠকের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তাঁরা বলেন, দেশজ সংস্কৃতির শিল্পীরা কী ভয়ানক টানাপোড়েন, কী অন্তর্দাহ, কী প্রতিকূল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে জীবনধারণ করে এই শিল্পের সাধনায় যুক্ত থাকতে হয়েছেসেটা তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর আত্মজীবনীতে।

গত ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুরনাহার মিলনায়তনে নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রাবন্ধিকলোকসাহিত্য গবেষক ড. আমিনুর রহমান সুলতান, গবেষক সাংবাদিক মুহাম্মদ শামসুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাবুল বিশ্বাস, গবেষক আলম সাইফুল, নাট্যজনলেখক জাহেদুল আলম প্রমুখ। বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. প্রণব কুমার চৌধুরী, মিলন কান্তি দে’র নাতি স্বপ্নীল। অনুষ্ঠানে মিলন কান্তি দে রচিত সর্বশেষ গ্রন্থ ‘যাত্রাশিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নন্দিত নায়িকারা’র পাঠ উন্মোচন করা হয়।

স্মরণসন্ধ্যায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব রবিউল আলম, নাট্যজন মুনির হেলাল, কবি সাংবাদিক ওমর কায়সার, নাট্যজন খালেদ হেলাল, . ইউসুফ ইকবাল দীপু, নাট্যকার দীপক চৌধুরী, . আজাদ বুলবুল, সংগঠক মুহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তী, অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্তী, শিশুসাহিত্যিক আজিজ রাহমান, কবি মর্জিনা আখতার, কবিগল্পকার লিপি বড়ুয়া, শিশুসাহিত্যিক আবুল কালাম বেলাল, প্রাবন্ধিক বাসুদেব খাস্তগীর, গল্পকার ইফতেখার মারুফ, শিশুসাহিত্যিক অমিত বড়ুয়া, কবি জি এম জহির উদ্দীন, কবি তানভীর হাসান বিপ্লব, কবি দিপীকা রানী বড়ুয়া, কবি জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, লেখক শরণাংকর বড়ুয়া, চিত্রশিল্পী নাটু বিকাশ বড়ুয়া, লেখক নীলরতন দাশ গুপ্ত প্রমুখ। নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কীর্তিমান এই লেখক গত ৭ ফেব্রুয়ারি পরলোকগমন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমা ও শিশু হাসপাতালে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন
পরবর্তী নিবন্ধশাহ আমানত বিমানবন্দরে ৩১৫ কার্টন সিগারেট জব্দ