মি’রাজুন্নবী (দ.) ও সালানা ওরছে হযরত গাউছুল আজম (রা.) মাহফিলে মুসল্লির ঢল

| শনিবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ

প্রিয় রাসূলের (.) গভীর ভালোবাসায় নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে যাঁরা স্মরণীয় হয়েছেন তাদের মধ্যে কিংবদন্তিতুল্য বেনজির ব্যক্তিত্ব হলেন খলিফায়ে রাসূল (.) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)। নবীজি (.)-কে অনুসরণঅনুকরণঅনুভবে সর্বান্তকরণে ধারণ করে, আখলাকে গ্রহণ করে, হৃদয়ে লালন করে হযরত গাউছুল আজম (রা.) সমস্ত জীবন অতিবাহিত করেছেন। শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ ও সুন্নাতে মোস্তফার পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন এমনকি মরুয়তের ব্যাপারেও যিনি শতভাগ সচেতন ছিলেন। এবাদতে যেমন অনন্য ছিলেন, একিনেএখলাসে ছিলেন নিখুঁত ও অনবদ্য। অফুরন্ত উদারতায়মহানুভবতায় এবং সৃষ্টির কল্যাণে তিনি ছিলেন সর্বদা নিবেদিত। নবীজি (.)-কে অনুসরণের মধ্য দিয়ে প্রিয় রাসূল (.) এর এতটা নৈকট্য অর্জন করেছেন যে প্রিয় রাসূল (.) উনার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে রওজা পাকে ডেকে নিয়ে অলৌকিকভাবে বায়াতে রাসূল (.) প্রদান করে খেলাফতে রাসূল (.) এর সুমহান মর্যাদা দান করেছেন। প্রিয় রাসূল (.)-কে হৃদয়ে ধারণ করার ঐতিহাসিক দর্শন দিয়ে মানুষকে পথ দেখিয়েছেন হেদায়তের, স্বাদ দিয়েছেন মারেফতের, পাথেয় দিয়েছেন হাক্বিকতের। নিজে যেমন প্রিয় রাসূল (.) এর ভালোবাসা ও অনুসরণে আপোসহীন ছিলেন তেমনি উনার অনুসারীদেরকেও নবীপ্রেমের পথে ও মতে হৃদয় থেকে জাগিয়ে তুলেছেন।

গতকাল (শুক্রবার) দিনরাতব্যাপী চট্টগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (.), হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্‌হুর স্মরণে ৭৩ তম পবিত্র মি’রাজুন্নবী (.) উদযাপন ও সালানা ওরছে হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্‌হুর ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে এ মহামনীষীর একমাত্র খলিফা, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

.বি সিনেট সদস্য এবং সংগঠনের মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালানা ওরছে পাকে বিশেষ অতিথি ছিলেন চ.বি গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জালাল আহমদ। বক্তব্য রাখেন মুফতি মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী, মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সবুর ও মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানি ফয়সাল। এই মহান ব্যক্তিত্বের ওরছে পাক পবিত্র মি’রাজুন্নবী (.) এর বরকতময় দিনে। উনার ওরছে পাক উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সারাবিশ্বে খতমে কুরআন আদায়ের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ বছর তেলাওয়াতে সিজদাহসহ খতমে কুরআন আদায়ের সংখ্যা ছিল ২৮,০১২টি ও খতমে তাহলিল ১,০৯৪টি। খতমে কুরআনের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল খতমে তাহলিল, খতমে ইউনুস, দরূদে সাইফুল্লাহ, দরূদে নারিয়াহ, নফল রোজা, নফল নামাজ, ফয়েজে কুরআন, মোরাকাবা, জিকিরে গাউছুল আজম মোর্শেদী, তাহাজ্জুদ, মিলাদকিয়াম আদায়ের মতো এবাদতময় সব কর্মসূচি। শরীয়ত ও সুন্নাতে মোস্তফা (.) এর আদলে এমন কর্মসূচি পুরো বিশ্বে বিরল। মিলাদকিয়াম শেষে মাননীয় প্রধান মেহমান দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তিসমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের ১৩ আসনে একক প্রার্থী, দুটিতে আশাবাদী
পরবর্তী নিবন্ধচুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা আজ