বছরব্যাপী প্রতীক্ষা শেষে মাসব্যাপী সিয়াম উৎসব আজ থেকে শুরু হলো। ফিরে এলো সিয়াম সাধনার বরকতময় মাস। মাহে রমজান যেন পুণ্যের পরশ বুলিয়ে দেয়ার অবারিত সুযোগ এনে দেয় প্রতিটি রোজাদারের জন্য। রোজা কেবল উপবাসব্রত নয় বরং আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা অর্জনের বড় মাহেন্দ্রক্ষণ। দিনভর উপোস থেকে এবং ইন্দ্রিয় সম্ভোগ থেকে বিরত থেকে একজন রোজাদার মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের সতত প্রয়াস চালায়। আজ প্রথম রোজার দিনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবিনয়ে প্রত্যাশা ও কামনা করি, ভালোয় ভালোয় যেন আমরা রোজার দিনগুলো অতিবাহিত করে অশেষ পুণ্যসিক্তির সুযোগ লাভ করি। সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া মহান আল্লাহর জন্য, যিনি মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার বিধান দিয়ে আমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহধন্য হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। নবীকুলশ্রেষ্ঠ রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.) এর ওপর দরুদ–সালামের হাদিয়া নিবেদন করছি। যিনি তাঁর উম্মতকুলের মাঝে রোজার বিধান উপহার দিয়ে তাদেরকে ধন্য ও কৃতার্থ করেছেন। মাসজুড়ে খোদায়ী করুণা ও অবারিত পুণ্যের হাতছানি এই মাহে রমজান। রোজার মাসে একটি ফরজ ইবাদতের পুণ্য মিলে সত্তর গুণ পর্যন্ত। কোনো নফল ইবাদতের বিনিময় হিসেবে মিলে ফরজের সওয়াব।
রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের শুভ বার্তা নিয়ে এলো রমজান মাস। করুণা, ক্ষমা ও জান্নাত লাভের সুযোগ নিয়ে আসে রোজার মাস। কঠিন সিয়াম সাধনার মাধ্যমে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে একজন রোজাদার আল্লাহপাকের কাছে তার ত্যাগের সর্বোচ্চ নজরানা পেশ করে। আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য প্রকাশ করার সুযোগ মাহে রমজান। রোজার মাস যেন বান্দার জন্য মাসব্যাপী সেরা প্রশিক্ষণের সুযোগ। রোজার প্রতিটি মুহূর্ত দামি ও মূল্যবান। রাতে এশার নামাজের সঙ্গে মাসজুড়ে বিশ রাকায়াত তারাবির নামাজ, মধ্যরাতে নফল ইবাদত তাহাজ্জুদ নামাজ, শেষ রাতে আরামের শয্যা ত্যাগ করে ঘরে ঘরে সাহরি গ্রহণের ধুম, দিনব্যাপী রোজা শেষে সন্ধ্যায় আনন্দঘন পরিবেশে ইফতার, দিনে–রাতে কোরআন তেলাওয়াত, অবিরত দরুদ–সালাম পাঠ, গরিবদের মাঝে দান সদকাহ জাকাত বিতরণ, রোজার শেষ দশকে বিশেষ ইবাদত ইতিকাফ ইত্যাদি ইবাদত বন্দেগিতে রত থেকে রোজাদার মহান রবের আনুগত্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের সতত প্রয়াস চালায়। এই রোজার মাসে প্রিয়নবীর (দ.) ওপর অবতীর্ণ হয় আসমানি কিতাব কোরআন মজিদ। রোজার শেষ দশকে আসে লাইলাতুল কদর। এই রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। কদর রজনীতে নিবিষ্ট চিত্তে ইবাাদত বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। কোরআন মজিদের সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে রোজার বিধান পেশ করা হয়েছে। অর্থ : হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হলো যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। অন্য আয়াতে রয়েছে– ‘ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহরা ফাল ইয়াসুমহু’– ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)। প্রত্যেক মুসলিম সুস্থ–সক্ষম নরনারীর ওপর মাসজুড়ে রোজা রাখা ফরজ।
এবার স্বস্তিদায়ক আবহে মুক্ত পরিবেশে রোজার মাসটি এলো আমাদের মাঝে। রোজার মাস যেন আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের অবারিত অনুশীলন। সত্যিকার আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম অর্জন করতে পারলে রোজার পরিপূর্ণ মাহাত্ম্য ও পুণ্য আমরা অর্জনে সক্ষম হবো। রোজার মাসে সবাই সংযমের পরিচয় দেবেন, ব্যবসায়ী বন্ধুগণ পণ্যমূল্য সহনীয় রেখে রোজাদার ও ভোক্তা সাধারণকে স্বস্তিতে মাসটি অতিবাহিত করার সুযোগ তৈরি করবেন– আজ রোজার মাসের শুরুতে এই বিনীত প্রত্যাশা। মোবারক মাহে রমজান।











