বাসা–বাড়ি থেকে সরাসরি ময়লা–আবর্জনা সংগ্রহে নগরবাসী থেকে আলাদা কোনো ফি নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আগামী ১ মার্চ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ময়লা সংগ্রহে বাসা–বাড়ি থেকে ৭০–৮০ টাকা করে নেওয়া হত। মার্চ থেকে বিনামূল্যে নেওয়া হবে। তবে নগরবাসীর কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমাদের যেসব কর্মচারী আপনাদের কাছে ময়লা নিতে আসবে তাদের নিয়মিত ময়লা দিয়ে দিবেন। গতকাল রোববার দুপুরে নগরের হালিশহর এইচ ব্লক আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এদিন মেয়র ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড ও ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
তিন প্রকল্পের মধ্যে ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এইচ ব্লক আবাসিক এলাকা মাঠের উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজের প্রকল্পটি প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার বর্গফুট মাঠের চারদিকে ৭ ফুট প্রশস্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ওয়াকওয়ের পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠ এলাকায় ১৩২টি গার্ডেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। বাগানের ফাঁকে ৪৪টি বিশ্রাম বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ২৬৪ জন বসতে পারবেন। ২২ হাজার ৫০০ বর্গফুট আধুনিক সবুজ খেলার মাঠ, ৩ হাজার ৭৫০ বর্গফুট ইনডোর সুবিধা (টেনিস, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি), ৩ হাজার ৩৭৫ বর্গফুট কিডস জোন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল উপযোগী দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
এরপর মেয়র ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডে হালিশহর এসি মসজিদ থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও গড়ে ৩৫ ফুট প্রশস্ত সড়কের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেন। রাস্তার উভয় পাশে ৪ থেকে ৫ ফুট প্রশস্ত স্ল্যাবসহ নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত বাগান সমৃদ্ধ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, যা পথচারীদের চলাচলকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করবে।
এছাড়া ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ডের মহেশখালের উপর প্রায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩.৭০ মিটার দীর্ঘ ও ১০.৫০ মিটার প্রস্থের একটি সেতুর উদ্বোধন করেন মেয়র। সেতুর উভয় পাশে অ্যাপ্রোচ রোড, দৃষ্টিনন্দন ও নিরাপত্তা রেলিং এবং পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার প্রস্থের কার্পেটিং রোড, ৩০০ মিটার আরসিসি রোড, ৪৭৫ মিটার ফুটপাত, বিজিবি অফিসের সামনে ৩৫২ মিটার দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল, ১২০টি লাইট এবং ৬২ মিটার আরসিসি প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের চট্টগ্রাম দক্ষিণ–পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, তাসমিয়া তাহসিন ও সহকারী প্রকৌশলী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।
বিনামূল্যে ময়লা সংগ্রহের কারণ : ময়লা সংগ্রহে ফি না নেওয়ার কারণ হিসেবে ডা. শাহাদাত বলেন, নগরবাসী অনেকে এই টাকা দিতে রাজি হতেন না। আবার নানারকম অভিযোগ ছিল। তাই আমরা এই টাকা নেওয়াটাই বন্ধ করে দিচ্ছি। আমাদের কর্মচারীদের সঙ্গে বর্তমান ভেন্ডারদের সমন্বয় করে দেওয়া হবে। সঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে আমরাই প্রথম যারা ময়লা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করার উদ্যোগ নিয়েছি হালিশহরে। এখন আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডির শেষ পর্যায়ে আছি। এটি যদি বাস্তবায়িত হয় এই ময়লা দিয়ে চট্টগ্রামকে আমরা সম্পদে পরিণত করতে পারব।
বায়োগ্যাস প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার থেকে ৩২শ মেট্রিক টন ময়লা কালেকশন করার চিন্তাভাবনা ছিল জানিয়ে মেয়র বলেন, আমরা ২২০০ মেট্রিক টন ময়লা পাচ্ছিলাম। ৮০০–১০০০ মেট্রিক টন ময়লা বাইরে ফেলে দিচ্ছিল জনগণ। যার কারণে আমরা ডোর টু ডোর প্রকল্পটা জোরদার করেছিলাম। এরপর আমরা ৪০০–৫০০ মেট্রিক টন ময়লা এঙট্রা কালেকশন করতে পেরেছি, সেখানে ৭০–৮০ টাকা করে নেওয়া হতো।
বিএনপিকে হারাতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করেছেন উপদেষ্টারা : ডা. শাহাদাত বলেন, গণতান্ত্রিক একটা পরিবেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের অন্যতম একটি চমৎকার নির্বাচন হয়েছে। অনেকে বলে যে, বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আপনাদের আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমি যেহেতু সরকারের একটি অংশে আছি এবং ছিলাম, আমি দেখেছি সরকারের অনেক উপদেষ্টা বিএনপিকে কীভাবে হারানো যায়, এজন্য ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চেয়েছেন। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন নির্ধারিত করে রেখেছেন দেশনায়ক তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করবেন, যার কারণে আজকে জনগণই কিন্তু ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিএনপি কতটুকু জনপ্রিয়।
তিনি বলেন, অনেক ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বিএনপি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতে জিতেছে। আরো একটি আসনে জিতত, যদি আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট না কাটত। চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশ শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সড়কপথে যেসব এলাকা দিয়ে গেছেন, সেখানের সব আসন জিতেছে বিএনপি।
ডা. শাহাদাত বলেন, উনার (তারেক রহমান) যে ক্যারিশম্যাটিক পাওয়ার আছে, উনি যদি কুড়িগ্রাম নীলফামারী যেখানে বিএনপি ভোট কম পেয়েছে, সেখানেও যদি এভাবে হেঁটে হেঁটে, গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে যেতে পারতেন, ওইখানেও বিএনপি অনেক আসন পেত।











