মাতারবাড়ী এক্সেস রোড প্রকল্পে বিপুল রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কা

সিদ্ধান্ত বাতিলে হাই কোর্টে রিট, শুনানি ২১ জুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি | বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ at ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট এঙেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও মূল্য নির্ধারণের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরির অভিযোগে প্রকল্পের এই সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে রিট করা হয়েছে। প্রশাসনিক ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন। রিটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। গত সোমবার দায়ের করা রিটে মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল চাওয়া হয়েছে। হাই কোর্ট রিটটি গ্রহণ করে আগামী ২১ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে।

রিটে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে প্রতি ঘনফুট বালুর রয়্যালটি মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও ড্রেজিং ব্যয়ের অজুহাতে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা সমন্বয় দেখিয়ে কার্যত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। এতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তোকিউএমআইএলজেভিকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রিটকারীর দাবি, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিধান নেই। অথচ এই প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিটে আরো অভিযোগ করা হয়, বালু উত্তোলনের আগে কোনো পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা হয়নি। এতে মহেশখালীর উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ এই প্রকল্পে আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বালুর প্রকৃত বাজারমূল্য ও সরকারের কাছে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধমাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চ্যানেলের ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু