কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৪৫ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার হয়েছে ওয়াহিদুল ইসলাম নামের সাত বছরের এক শিশুর। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবায় ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ডোবা থেকে সকাল ৯টার দিকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হত্যার শিকার শিশু ওয়াহিদুল ইসলাম পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের পুত্র।
পুলিশ জানিয়েছে– পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে নিখোঁজ হওয়ার পর পরই মারা হয়েছে। এর পর লাশ পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এই কারণে মরদেহে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, এই ঘটনায় পরিবারসহ এলাকাবাসীর সন্দেহ অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শিশুর বাবা ইজিবাইক (টমটম) চালক তৌহিদুল ইসলাম লিটন জানান– তার সন্তান মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। গত রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাদরাসায় পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ই নিখোঁজ হয় সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তার হদিস মিলছিল না। তার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, শিশু ওয়াহিদুল ইসলামের লাশ ডোবার ময়লা পানিতে ভাসতে দেখে প্রথমে বিষয়টি আমাকে জানায়। এর পর খবর পৌঁছানো হয় পুলিশের কাছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক। আশা করছি আইন–শৃক্সখলা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ শিশুর প্রতি বর্বরোচিত এই ঘটনার সাথে জড়িতদের অতিদ্রুতই শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।











