অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে, ভোটের আগের মাসে রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়েছে, চলতি অর্থবছরের সবচেয়ে কম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে গেল জানুয়ারিতে। এর আগে এর কাছাকাকাছি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল গত অক্টোবরে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাকি মাসগুলোর রাজস্ব আদায়ে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এনবিআর। এর আগের অর্থবছরের শুরুতে কোটা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আর ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে দেশের অর্থনীতি একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল। তাতে ওই সময় রাজস্ব আদায়েও ভাটা দেখা যায়। ওই সময় রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দেখা মেলে। খবর বিডিনিউজের। একক মাস হিসেবে জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, আগস্টে ১৮ দশমিক ০৩ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে তা দাঁড়ায় ২০ দশমিক ১৫ শতাংশে। সবমিলিয়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায় বাড়ে ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ। এরপরেই ধাক্কা আসে, অক্টোবর মাসে প্রবৃদ্ধি হয় কেবল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। তারপর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও শেষ ধাক্কা এসে লাগে জানুয়ারি মাসে।
একক মাস হিসেবে নভেম্বরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ আর ডিসেম্বরে ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সময়ের সঙ্গে প্রবৃদ্ধি হার কমতে থাকায় চলতি অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাস শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ভোটের আগের মাস মিলিয়ে সাত মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯০ কোটি টাকা। তাতে করে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ১১২ কোটি টাকা। অবশ্য অর্থবছরের শেষ দিকে সাধারণত রাজস্ব আয় বাড়তে দেখা যায়। চলতি অর্থবছরে সরকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে চায়। বাজেটে যা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে অর্থ উপদেষ্টা এনবিআর ও সব উৎস থেকে মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, যা জিডিপির ৯ শতাংশ। এর মধ্যে অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।











