খাদ্যে ভেজাল মানে খাঁটি খাবারে অননুমোদিত কিছু মেশানো। নানা উদ্দেশ্যে তা করা হয়। যেমন–ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ছত্রাক ইত্যাদি অণুজীবাণুর আক্রমণ ও পচনশীলতা রোধ করে দীর্ঘদিন খাবার মজুদ, খাদ্য অধিকতর সুস্বাদু করা ইত্যাদি। বা শিশু–মন ভোলাতে জুেস, ড্রিংকসে রং মেশানো।
ভেজাল খাদ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যালস–
ডিনার প্লেটে থাকা প্রায় ২৪ রকমের কেমিক্যালস শিশুর জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ। যেগুলো ক্যানসার ঝুঁকিও তৈরি করতে সক্ষম। যেমন–
৪হারবিসাইডস, পোকামাকড় মারার ওষুধ, ইঁদুর, মশা, মাছি মারার কেমিক্যালস– যা ক্ষেতের শাকসবজি, ফলমূল সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়
৪বেশি মাংস ও বেশি দুধ পাওয়ার আশায় গৃহপালিত প্রাণীর খাবারে মেশানো কেমিক্যালস
৪পশুপালনে চিকিৎসা ও নিরাময়ে এন্টিবায়োটিকস ও কেমিক্যালসের ব্যবহার
৪মুরগির খাবারে কপার সালফেট, সিসা ও আর্সেনিক মেশানো থাকে। যাতে তথাকথিত উন্নত জাতের মুরগি উৎপাদিত হয়, যা খাবারের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলী ও অন্ত্রে শোষিত হয়
৪ফাস্টফুড বেশি সময় টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় মোম আস্তরণ, জলীয় দ্রবণ এবং স্প্রে। পরিষ্কার করেও এসবের জীবাণু খাবার থেকে বিনষ্ট করা যায় না।
৪প্যাকেজিং–এ প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক ফিলমসের ব্যবহার। এগুলো মাখন ও পনিরের সঙ্গে শোষিত হয়
৪জেনেটিক ত্রুটি–বিচ্যুতিসহ বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেয়, এরকম উপাদান।
শিশুরা কেন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত–
৪বয়স্কদের তুলনায় শিশুর খাবার গ্রহণের পরিমাণ বেশি, তাই তারা কেমিক্যালসের বেশি সংস্পর্শে আসে
৪শিশুর অপরিপক্ক শরীর এসব বিষদ্রব্য নির্বিষ করা, কিংবা কিডনি মারফতে সহসা নিষ্কাশন করতে পারে না
৪বাড়ন্ত শিশুর কোষকলা, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র সংবেদনশীল বলে শিশু স্থায়ী ক্ষতির শিকার হয়।
ভেজাল খাদ্য গ্রহণে শিশু কীরুপ ক্ষতির শিকার–
৪শিশুর দেহকোষ, মস্তিষ্ক, আন্ত্রিকনালী, রক্ত সরবরাহতন্ত্র, কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত
৪শিশু–খাদ্যে মেশানো রং ডানপিটে শিশু, অ্যালার্জি, অ্যাজমা, ত্বকে র্যাশ, বমি, মাথাব্যথা, বিষক্রিয়া, শক্ ইত্যাদি ঝুঁকি তৈরি করে
৪ বেনজাইটস : মস্তিষ্কের ক্ষতি, র্যাশ
৪ ব্রোমেইটস : খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে
৪ বিউটিলাইলস : রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়ায়, লিভার, কিডনির ক্ষতিকর
৪কেফেইন : সুগন্ধি উৎপাদনে ব্যবহৃত এসব কেমিক্যালস্ স্ন্লায়বিক উত্তেজনা, বুক ধড়পড় করায়। হার্টের অসুখ থাকলে বিপজ্জনক অবস্থা নিয়ে আসে।
৪স্যাকারাইনস : আন্ত্রিক অসুখ, র্যাশ, ব্লাডার ক্যানসার
৪শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি– মানসিক বিকাশে বিপত্তি। যে–কারণে ইউরোপসহ বেশ কিছু দেশে এসব কেমিকালস এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লেখক : সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।









