ভূমি দিবসের ৫০ বছর, এর মধ্যেই অধিকাংশ ভূমি হাত ছাড়া ফিলিস্তিনিদের

| মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিম তীরের জেনিনের দক্ষিণে নিজের জমিতে কয়েক দশক আগে নিজের হাতে যে জলপাই গাছগুলো লাগিয়েছিলেন, সমপ্রতি সেগুলো কেটে ফেলার মতো দুঃসহ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী আবদুল রহমান আজমকে। অবৈধ এক বসতির রাস্তা নির্মাণে ওই জমিটি জব্দে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পর তিনি নিজেই ওই গাছগুলো কেটে ফেলেন। খবর বিডিনিউজের।

গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল ৫১৩ ডুনামের (৫১ দশমিক ৩ হেক্টর) বেশি জমি করায়ত্ত করেছিল, তার মধ্যে ৪৫০ ডুনামই ছিল আলফান্দাকুমিয়া গ্রামের, বাকিটুকু সিলাত আদদাহর ও আলআত্তারার মতো পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর। ফিলিস্তিনিরা যখন এ বছর ভূমি দিবসের ৫০ বছর পালন করছে, তখনও, বিশেষ করে এরিয়া সি অংশে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সমপ্রসারণ, ভূমি বেদখল, নিজের জমিতে সীমিত প্রবেশাধিকারের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে, বলছে আল জাজিরা। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, বসতি সমপ্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই, এটি না মেনে উপায় থাকবে না।

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গ্যালিলি অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফিলিস্তিনি জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তার প্রতিবাদে একাধিক গ্রাম ও শহরে বিস্তৃত ধর্মঘট ও নানান কর্মসূচি নেওয়া হয়। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ গুড়িয়ে দেয় ইসরায়েল, প্রাণ হারান ছয় ফিলিস্তিনি, আহত হন অনেকে, গ্রেপ্তার কয়েকশ। এর প্রতিবাদে প্রতিবছর ৩০ মার্চকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। দিনটি হয়ে ওঠে তাদের জাতীয় পরিচয়ের অনুষঙ্গ, জমির সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সম্পর্ক ও জমি বেদখল প্রত্যাখ্যানের প্রতীক।

দুইবার বেদখল : বাবা, চাচা, দাদাদের সঙ্গে শৈশব থেকেই জলপাই গাছ লাগানো ও চাষবাসের কাজ করে আসছেন আজম। চাষের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার গভীর সম্পর্ক, ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি এ কাজই করেন। সে বছর তাদের জমি পড়ে ইসরায়েলি বসতি তারসালা ও সানুর সামরিক ঘাঁটির মধ্যে। এরপর আজম ও তার পরিবার আর জমিতে যেতে পারতেন না। ২০০৫ সালে ইসরায়েল ওই দখল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেনাবাহিনী সামরিক ক্যাম্প গুটিয়ে নেয় এবং তারসালা বসতিও সেখান থেকে সরে যায়। আজম ও অন্যান্য জমির মালিকরা তাদের জমিতে ফেরেন, সেসময় তাদের যে আনন্দ হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু সমপ্রতি ওই জমি আবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, ফিলিস্তিনি জমির মালিকদের ফের তাদের নিজেদের জমিতেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েলি সেনাদের বুলডোজারে গাছগুলো ধ্বংস হওয়ার আগেই আজম নিজের জমিতে চলে যান এবং নিজেই সেগুলো কেটে ফেলেন। সেসময় তার চোখ দিয়ে দরদর করে পানি পড়ছিল।

পরে তিনি খেয়াল করেন যে কেবল তিনিই নন, সব জমির মালিকই একই কাজ করেছেন। সেনা বা সেটলাররা গাছগুলো কেটে ফেলার চেয়ে আমরা নিজেরা কেটে ফেলেছি সেটাই ভালো হয়েছে। এ জমি আমাদের, আমাদের গাছগুলো আমাদের সন্তানের মতো, আমরা তাদের সযত্নে বড় করেছি, তাদের লালন পালন করেছি, আমরা কষ্ট করে এগুলো লাগিয়েছি, বড় করেছি, বলেছেন আজম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইরানে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাজ্য : কিয়ার স্টারমার
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে কিশোরীর লাশ উদ্ধার