ভারতকে হারিয়ে সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব–১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পথে আরও এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার রাউন্ড রবিন লিগে শক্তিশালী ভারতকে ২–০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিটার জেমস বাটলারের দল।
খেলার শুরুতেই প্রচণ্ড চাপ দেয় ভারত, কিন্তু দারুণ দৃঢ়তায় পোস্ট আগলে রাখেন কিপার ইয়ারজান বেগম। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুছিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। অর্পিতা বিশ্বাস সুযোগসন্ধানী শটে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলপি আক্তার। নেপালকে ১–০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ভারত প্রথম হারের স্বাদ পায়। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে আছে।
শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ভারত, কিন্তু পোস্টে ইয়ারজান ছিলেন বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে। চতুর্থ মিনিটে জাদা ফের্নান্দেসের ফ্রি কিক অনেকটা লাফিয়ে আটকান তিনি। পরের মিনিটে আবার আক্রমণ শাণায় ভারত। বাম দিক থেকে আসা থ্রু পাস প্রীতিকা বর্মন ধরার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে তার পথ আগলে দাঁড়ান ইয়ারজান। এতে শট নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। ইয়ারজানের পাশ দিয়ে প্রীতিকা শট নিলেও বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে। অষ্টম মিনিটে পা দিয়ে আরেকটি শট ঠেকিয়ে তিনি আবারও ত্রাতা হন বাংলাদেশের। ২২ মিনিটে প্রথম আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ, কিন্তু মামনি চাকমার বক্সে ফেলা বলের নাগাল পাননি সুরভি আকন্দ প্রীতি। এরপর থেকে ভারতের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে বাংলাদেশ। সাত মিনিট পর মিলে যায় কাঙ্ক্ষিত গোলও। মামনি চাকমার ফ্রি কিক ভারতের গোলকিপার মুন্নির গ্লাভস দিয়ে ক্রসবারে লেগে নিচে পড়ে। শেষ মুহূর্তেও পা চালিয়ে মুন্নি প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলেন বিপদমুক্ত করার, কিন্তু গোলমুখে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস টোকায় জালে পাঠান বল।
ভুটানকে ১২–০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ ব্যবধান দ্বিগুণ করে ৪০ মিনিটে। ডান দিক থেকে গোলমুখে বাড়ানো সতীর্থের ক্রস দুই ডিফেন্ডারের ফাঁকে থাকা আলপি নিখুঁত টোকায় জালে পাঠান। ৫৬ মিনিটে মুনকির বাম পায়ের শট লাফিয়ে আটকান মুন্নি, ব্যবধান বাড়তে দেননি। এরপর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি কিছুটা কমে। দল গোল করার চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে দুই গোল আগলে রাখার দিকে মনোযোগ দিয়ে খেলা শেষ করে।
রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বুধবার স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব–১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়েছে। বাংলাদেশ চারবার এবং ভারত একবার এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবেও সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত।












