ভারী বৃষ্টিতে হাঁটু সমান পানি জমে যায় তিন তলা ভবনের নিচতলায়। একই ফ্লোরে সিঁড়ির নিচে ছিল বাসার আইপিএসের সংযোগ। পানি বাড়তে থাকায় দুর্ঘটনা রোধে এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. আবু তাহের (৬৫)। কিন্তু বিদ্যুতায়িত হন তিনি। তার চিৎকার শুনে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন গাড়ি চালক মো. হোসাইন (৩৯)। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনিও। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে নগরীর পাঁচলাইশ থানার কাতালগঞ্জ পেট্রোলপাম্পের সামনের ১ নম্বর রোডের রাশেদ উল্লাহর মালিকানাধীন ‘খান হাউসে’। নিহত আবু তাহের খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার গজলতলা এলাকার মৃত আবদুর রউফের ছেলে। মো. হোসাইন মীরসরায় জোরারগঞ্জের সত্তরোয়া এলাকার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে। আবু তাহের তার স্ত্রীকে নিয়ে কাতালগঞ্জেই বসবাস করতেন। পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান বলেন, বাড়ির সিঁড়ির নিচে থাকা আইপিএসের বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিটে দুইজন আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এদিকে গতকাল দুপুরে পাঁচলাইশ থানায় উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, দুইজনের মরদেহ রাখা হয়েছে সেখানে। এসময় আবু তাহেরের স্ত্রীকে দেখা গেছে বাকরুদ্ধ অবস্থায়। কোনো কথাই বলছিলেন না তিনি। চুপচাপ বসেছিলেন। অধিক শোকে পাথর হয়ে যান তিনি। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক আজাদীকে বলেন, হোসাইন অনেক ভালো একটা ছেলে। সে শহরে একা থাকতো।
ফায়ার সার্ভিসের চন্দনপুরা স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের সিঁড়ির নিচে ছিল আইপিএস। পানির নিচে থাকা আইপিএসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছিলেন তারা। সংযোগ খোলার পর পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। খবর পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই ভবনের বাসিন্দারা হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাহেরকে সিঁড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
এদিকে পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে দেয়া নিহতদের ডেথ সার্টিফিকেটের তথ্য অনুযায়ী, আবু তাহেরকে সকাল ১০টা ৯ মিনিটে এবং মো. হোসাইনকে সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয়।












