ব্যবসায় উদ্যোগে আমার সংগ্রামী জীবন নিয়ে একটি অধ্যায় আছে

নারী উদ্যোক্তা লুৎফা সানজিদা

| সোমবার , ৮ মার্চ, ২০২১ at ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা লুৎফা সানজিদা বলেন, ১৯৮৯ সালে হাজার কয়েক টাকা নিয়ে আমি ব্যবসা শুরু করি। প্রথম দিকে মাত্র একজন কর্মচারী নিয়ে চাকরির পাশাপাশি চট্টগ্রামের স্থানীয় বাজারে বাচ্চাদের জামা তৈরি করে সাপ্লাই দিতাম। পরে মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে চকভিউ সুপার মার্কেটে অনিন্দ্য বুুটিক হাউস নামে একটি বুটিকের শো-রুম চালু করি। সেই সময় পুঁজিস্বল্পতার কারণে মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাতে থাকি। পরিবারের সবার ছোট হওয়ায় কেউ চাইত না আমি এত কষ্ট করি।
তিনি বলেন, ব্যবসা ভালো হওয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণের চিন্তা করি। চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সে বড় আকারে শো-রুম চালু করি। সেই সময় ইউনিক ডিজাইনের কারণে ব্যবসা জমে ওঠে। ২০০৪ সালে অনিন্দ্য পার্লার নামে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। সর্বশেষ হালিশহর এল ব্লক ও হালিশহর নিউ আই ব্লকে অনিন্দ্য বুটিক হাউস ও অনিন্দ্য বিউটি পার্লার গড়ে তুলি। একইসাথে আফমি প্লাজায়ও বুটিক প্রতিষ্ঠান দিই।
লুৎফা সানজিদা বলেন, বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডের সাথে মিল রেখে অনলাইন প্লাটফর্মেও আমার পণ্যের সমানতালে প্রচার ও প্রসার চলছে। এভাবেই আমার এগিয়ে চলা। আমাকে দেখে অনেকে নারী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। অনেকে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করেছেন। তবে আমাদের সময়ের সাথে বর্তমান সময়ের বিরাট পার্থক্য রয়েছে। আমাদের সময়ে প্রতিকূলতা বেশি ছিল। মেয়েরা ব্যবসা করুক, সেটি পবিরার চাইত না। আমিও খুব বেশি সাপোর্ট পেয়েছি, তা বলা যাবে না। আমার স্বামীর সুতার ফ্যাক্টরি ছিল। তিনি ফ্যাক্টরি করে প্রচুর টাকা লোকসান দেন। এছাড়া অন্য ব্যবসাও উনি ট্রাই করেন। বারবার লোকসানের কবলে পড়ায় আমি চিন্তা করি, আমার কিছু একটা করা দরকার। তখনই সুঁই-সুতা নিয়ে নামি।
তিনি বলেন, স্বামীর কথা বাদ দিলে একটা সময়ে এসে মেঝভাইসহ পবিরারের অন্যরা কাজে খুব উৎসাহ দিতেন। মেঝভাই লেখালিখি করতেন। উনি চাইতেন আমি যেন নিজের মতো করে কিছু করি। এই সময়ে এসে নিজেকে আমার সফল মনে হয়। কারণ ৩২ বছর ধরে টিকে থাকা চাট্টিখানি কথা নয়। এর চেয়ে বড় গর্বের বিষয় হচ্ছে, নবম-দশম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের ‘ব্যবসায় উদ্যোগ’ বইয়ে আমার সংগ্রামী জীবন নিয়ে একটি অধ্যায় রাখা হয়েছে। আমি মনে করি, এটি আমার জন্য বিশাল পাওয়া।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিজের পায়ে দাঁড়াতে নারীকে অনেক বাঁধার মুখে পড়তে হয়
পরবর্তী নিবন্ধনারীর এগিয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভূমিকা প্রধান