বেলকনি থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন চিকিৎসক দম্পতি

| রবিবার , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ

রিসোর্টের ঘর থেকে বের হয়েই আগুনের ভয়াবহতা টের পান চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন সাদি। চারদিকে আগুন, ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে আসছে। নিচে নামার পথও বন্ধ। কী করবেন বুঝতে না পেরে স্ত্রীকে নিয়ে ছুটে যান বেলকনিতে। সেখান থেকে লাফ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছিলেন না তিনি।

বেলকনি থেকে লাফিয়ে পড়েন পাশের একটি টিনের ঘরের ওপর। তাতে ঘরটির টিন ভেঙে নিচে পড়ে যান দুজন। এতে তার স্ত্রী চিকিৎসক নাফিজা নাওয়ার খানের পায়ে আঘাত লাগে। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন তারা। গতকাল সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। খবর বিডিনিউজের।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন সাদি বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। উঠেছিলেন ওই রিসোর্টে। কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় সাদি বলেন, সকালে তারা দুজনই ঘুমিয়ে ছিলেন। চিৎকার–চেঁচামেচি শুনে স্ত্রী ডেকে জানান, রিসোর্টে সম্ভবত কোনো সমস্যা হয়েছে। এরপরই আগুন দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। রিসোর্টটি পুরো কাঠের কাঠামো। দরজা খুলেই দেখি সব পুড়ে গেছে। নিচে নামার পথ নেই। কী করব বুঝতে পারছিলাম না।

তিনি বলেন, বেলকনিতে গিয়ে আর কোনো উপায় না দেখে লাফ দিলাম। আমরা একটা টিনের ঘরের ওপর পড়ি। টিন অনেক গরম ছিল। এরপর টিন ভেঙে নিচে পড়ে যাই। আল্লাহর রহমত, জায়গাটা বেশি উঁচু ছিল না। বেঁচে গেছি। শিহাব জানান, তাঁর স্ত্রীর পায়ে আঘাত লাগে। তার হাতে ও কাঁধে আঘাত রয়েছে। পরে দুজন সেখান থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা কঙবাজার সদর হাসপাতালে আসেন। রিসোর্টের আটটি কক্ষই বুক করা ছিল বলে শুনেছেন জানিয়ে শিহাব বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে থাকা অন্যদের বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচলে আসায় বেঁচে যান নূর আলম
পরবর্তী নিবন্ধঅনুমোদন ছাড়াই চলছিল রিসোর্টটি, ছিল ঝুঁকিপূর্ণ